শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

ঘুষ ৩৯ শতাংশ, এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে ভারত



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষায় প্রকাশ ঘুস অথবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, এ ছাড়া ভারতে কোনও সরকারি পরিষেবা পাওয়া খ‍ুব কঠিন! এমনই মনে করেন দেশের বেশিরভাগ মানুষ। সমীক্ষায় প্রকাশ, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ঘুষের হার সর্বোচ্চ এই দেশেই, ৩৯ শতাংশ। কোনও জনপরিষেবা পেতে ভারতে নিজের ব্যক্তিগত সংযোগ ও সম্পর্কের উপর ভরসা রাখেন ৪৬ শতাংশ মানুষ। সেটাও এশিয়ায় সর্বোচ্চ। এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষায়।


মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ভারত, বাংলাদেশ, চিন সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ১৭টি দেশে নাগরিকদের ঘুস দেওয়া-নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘গ্লোবাল কোরাপশন ব্যারোমিটার এশিয়া’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল সংস্থা। তাতে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৭টি দেশের ২০ হাজার মানুষের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়। গত ১২ মাসে ঘুস নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানা ছিল সমীক্ষার উদ্দেশ্য। যেখানে পুলিশ প্রশাসন, আদালত, সরকারি হাসপাতাল ইত্যাদিতে পরিষেবা পেতে মানুষের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, ঘুস দেওয়া-নেওয়া সর্বোচ্চ ভারতে!


সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ভারতীয়দের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে তাঁদের ঘুস দিতে হয়েছে। পরিচয়পত্র পাওয়ার মতো সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রেও চাই ঘুস। এই জাতীয় পরিষেবা পেতে ৪১ শতাংশ মানুষ ঘুস দিয়েছেন। তাছাড়া ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে পুলিশের কাছ থেকে কাজ হাসিল করেছেন ৩৯ শতাংশ মানুষ। আইডি কার্ড পাওয়া ও আদালতের কাজে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সাহায্য নেওয়ার পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৪২ ও ৩৮ শতাংশ।


এখানেই শেষ নয়, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ ভারতীয় মনে করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। ৫০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাঁদের কাছে উৎকোচ চাওয়া হয়েছে তারপর তা দিয়ে কাজ করাতে হয়েছে। আবার ৩২ শতাংশের দাবি, পার্সোনাল কানেকশন ছাড়া ওই পরিষেবা তাঁরা পেতেন না। ভয়ের পরিবেশ এবং সীমিত বাক স্বাধীনতা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ বিশ্বাস করেন, সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া, ভারতের ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা নিজেদের দেশে সরকারি দুর্নীতিকে বড়ো সমস্যা বলে মনে করেন। আন্দোলনের মাধ্যমে নাগরিকরা কোনও পরিবর্তন আনতে পারেন কিনা জানতে চাইলে, ভারতের ৫৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only