শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

সিনেমার কায়দায় চলন্ত গাড়ির উপর থেকে চাকা চুরি করতে আসা ধৃত চোরকে ছুঁড়ে ফেলল গাড়ির মালিক

 


ইনামুল হক, বসিরহাট: রাতের অন্ধকারে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে টায়ার খুলে নিতে আসা ধৃত চোরকে চলন্ত গাড়ি থেকে ছুঁড়ে ফেলল গাড়ির মালিক।  গাড়ির টায়ার চুরি রুখতে গিয়ে গুরুতর জখম হলেন গাড়ির মালিকও।  হিন্দি ও বাংলা ছবি কায়দায় ধরা পড়ল এই চোর ।ধৃতকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করল ক্ষিপ্ত জনতা। গুরুতর  জখম যুবককে উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হল পুলিশকে। শনিবার ভোরে রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গার চৌরাশি জীবনপুর। এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃগাড়ি পাচার চক্রের যোগ আছে কিনা তার তদন্ত করছে পুলিশ।

মাস খানেক আগে দেগঙ্গার নগরকচুয়া বাজার থেকে একটি আস্ত গাড়ি চুরির পর রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির টায়ার চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গাড়ি মালিকদের মধ্যে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার পৃথিবা রোডের জীবনপুর বাজার সংলগ্ন একটি ইট ভাটার সামনে প্রতিদিনের মতো এদিনও গাড়ি রেখেছিলেন সিরাজুল হক মণ্ডল। শনিবার ভোর রাতে সিরাজুল তার গাড়ির চালক খলিল মণ্ডলকে নিয়ে ভাড়ায় যাবে বলে গাড়ির কাছে আসতে দেখেন গাড়িটির দুটি চাকা নেই।সিরাজুল জানায়, গাড়ির দুটি চাকার জায়গায় গাড়ি উচু করার জগ লাগানো আছে।চুরি গিয়েছে দুটি চাকা। যার বাজার মুল্য ৮০ হাজার টাকা।নিজের গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাক্স গাড়ি। তাতে বেশ কয়েকজন লোক ।বুঝতে অসুবিধা হয়নি সিরাজুলের। চোরের দল যে গাড়িতে তা জেনে চোর চোর বলে চিৎকার করতে গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করে।

সিরাজুলের গাড়ির চালক খলিল বলেন, পালিয়ে যাওয়া চলন্ত গাড়ির পিছনের ডালা ধরে কোন ক্রমে ঝুলতে ঝুলতে গাড়ির উপর উঠে পড়েন সিরাজুল। তারপর গাড়ির উপর থাকা এক যুবকের ধরে চলন্ত গাড়ি থেকে নিচে ছুড়ে ফেলেন ।  বেগতিক দেখে গাড়ির গতি বাড়িয়ে বেড়াচাঁপার দিকে ছুটতে থাকে দুস্কৃতিদের গাড়ি।সিরাজুল জানান, বাকিদের ধরতে গাড়ির চালকের জানালার কাঁচ ভেঙে চালককে টেনে গাড়ি থামানো চেষ্টা করতেই বাকি তিনজন আমাকে ধরে মারতে থাকে।আমার কাছে থাকা নগদ ৩৪ হাজার টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। অগত্যা নিজের প্রাণ বাঁচাতে ওই তিন দুস্কৃতির কাছে আত্মসমর্পন করি। দেগঙ্গা বাজারের কাছে ওরা আমাকে হুমকি দিয়ে নামিয়ে পালিয়ে যায়।

ইতিমধ্যে ধৃত যুবককে ধরে জীবনপুর বাজারে নিয়ে আসে খলিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ধৃতকে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে চলে নির্মম মারধর। শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করতে গেলে বাধা দেয় এলাকার মানুষজন। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া গাড়ির চাকা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফেরতের পর ধৃতকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের ধরার ব্যবস্থা করতে হবে।পুলিশের কাছে ধৃত যুবক জানিয়েছে তার নাম বাবু মণ্ডল। কদম্বগাছি এলাকায় তার বাড়ি। যদিও সে তথ্য মানতে চাইনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাঁকে জেরা করে বাকি অভিযুক্তের গ্রেফতার ও খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only