রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

পুলিশ হেফাজতে কিশোরের মৃত্যু, আত্মহত্যা: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট



দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম: মল্লারপুরে অভিযুক্ত কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করলো পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশন। শনিবার মৃত কিশোরের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সাথে কথা বলেন  কমিশনের চেয়ার পার্সন অনন্যা চক্রবর্তীসহ চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। রবিবার বোলপুর সার্কিট হাউসে জেলা সমাহর্তা মৌমিতা গোদারা, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং সহ বিভিন্ন আধিকারিকের সাথে দীর্ঘ ক্ষণ তাঁরা বৈঠক করেন। 


এদিন জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।  বৈঠক শেষে কমিশন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমাদের কাছে জমা পড়েছে। ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফী আমরা দেখেছি। যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করেছেন। তিনি আমাদের সাথে দেখা করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং ভিডিওগ্রাফী দেখে বোঝা যাচ্ছে ওই কিশোর আত্মহত্যাই করেছে।


তবে, কি করে ওই কিশোর জানালার রডে ঝুলে পড়লো, সেটা এফ এস এল অর্থাৎ ফরেনসিক বিভাগ বলতে পারবে। কোলকাতা থেকে এব্যাপারে তাঁরা আজকেই আসবেন। তবে, আমি এস পি সাহেবকে বলেছি, সি সি টিভি খারাপ, এটা গ্রহণ যোগ্য নয়। জেলায় যতগুলো থানায় সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ আছে, তা সারিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এতে পুলিশের পক্ষে ভালো। কারণ, পুলিশ বলছে, ২৯ তারিখ ওই কিশোরকে থানায় হয় এবং তার পরের দিন জুভেনাইল কোর্টে তোলা হতো। সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক থাকলে, তার প্রমাণ পাওয়া যেত। নতুন থানা গুলোতে চাইল্ড ফ্রেন্ডলী রুম আছে। নাবালক হওয়ায় মৃতকে লক আপে রাখা হয়নি। 


তবে, মল্লার পুর থানা খুব ছোট।  প্রতিদিন করোনা সচেতনতা প্রচারাভিযানের কারণে স্পিকার বা মাউথ পিসের তার পড়েছিল।  বসে থাকার সময় এই তার কিশোরটি তুলে নেয়। কিশোর বয়সে আত্ম সম্মান বেশি সক্রিয় থাকে। হয়তো সেই কারণেই আত্মহত্যা করে থাকবে। যদিও সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। আমরা বলেছি, ওই পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্য করতে। পাশাপাশি, মৃতের মায়ের চিকিৎসার জন্য। জেলা শাসককে বলেছি, শিশুদের অধিকার বা সুরক্ষার জন্য সব থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only