শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

ডেউচা পাচামি প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে



কৌশিক সালুই, বীরভূম‌: এশিয়ার বৃহত্তম ডেউচা পাচামি প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চল প্রকল্পে কালো মেঘ। রাজ্যসভার সংসদ স্বপন দাস গুপ্তকে কাছে পেয়ে আদিবাসীদের হুংকার "জান চলে যাবে তবুও আমাদের জমি কয়লা শিল্পাঞ্চলের জন্য দেবো না"। সংসদের আশ্বাস আদিবাসীদের বঞ্চিত করে কোন কিছুই হবে না।


রাজ্যসভার সংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এদিন ডেউচা পাচামি প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চল এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় আদিবাসী মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া শুনে দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চলের ছাড়পত্র পেয়ে সরজমিনে কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে। ডেউচাতে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বৈঠকের পর কয়লা শিল্পাঞ্চল সূচনার গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চল এলাকার জমির মালিকানা নিরূপণ এর কাজ হয়েছে ও এলাকার সামাজিক নিরীক্ষণ এর কাজ শুরু হতে চলেছে। উচ্ছেদের আশঙ্কায় দ্বিধা বিভক্ত আদিবাসীদের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বাধতে শুরু করেছে। 


রাজ্যের মুখ্য সচিবের ডেউচা তে বৈঠকের দিন জেলার অন্যতম আদিবাসী নেতা রবীন সরেন ও কিছু অনুগামী উপস্থিত থাকলেও আর এক আদিবাসী নেতা সুনীল সরেনের অনুগামীরা সেই সভাতে ডাক পাননি। সেদিন তাদের কোনো কথাই শুনেনি রাজ্য সরকার বলে অভিযোগ তাদের। সেই বিক্ষুব্ধ আদিবাসীদের সঙ্গে শুক্রবার গাবারবাথানে কথা বললেন রাজ্যসভার সংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। স্থানীয় দেওয়ান গঞ্জের বাসিন্দা মুন্সী বাস্কে সাংসদকে কাছে পেয়ে বলেন," ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আমাদের সমাজ অংশগ্রহণ করলেও সেভাবে এখনো পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমাদের জমি জঙ্গল ছিনিয়ে পুঁজিবাদীরা নিজেদের উন্নয়ন করেছে। সেই জমি হারিয়ে আমরা পরিত্যক্ত জমিতে চাষ বাস করে এখন খাচ্ছি। আমাদের জান চলে গেলেও আমরা চাষের জমি কাউকে দেবো না"।


রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন," আদিবাসীদের দাবি-দাওয়া আমি দিল্লিতে পৌঁছে দেবো। প্রধানমন্ত্রী অন্য কর্মসূচিতে এখানে এলেও কয়লা শিল্পাঞ্চলের উদ্বোধন করতে কোন ভাবে আসবেন না"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only