রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

রেল লাইন থেকে কৃষকরা সরলেও ট্রেন চালাবে না রেলওয়ে



চণ্ডীগড়, ২২ নভেম্বরঃ রেলের সম্পত্তির না হয়েছে কোনও ক্ষতি আর না আন্দোলনকারীরা রেল লাইনের উপর ধরনায় বসেছেন, তারপরও ভারতীয় রেল জানাল যে, রাজ্য সমস্ত ট্রেনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করলে রেল পরিষেবা দেওয়া হবে না। ৫৬ দিন হল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে পঞ্জাবে। এমনটা আগে হয়নি। সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র নয়া কৃষি আইন আনার পর থেকে শুরু হয় কৃষকদের আন্দোলন। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ২৩৫২টি ট্রেন হয় বাতিল করা হয়েছে অথবা অন্য রুটে চালানো হয়েছে। পঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন আরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল অরুণ কুমার। তিনি জানালেন, আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের এখতিয়ারে। আন্দোলনকারীদের কীভাবে রুখবে সেটা তাদের বিষয়। রেল লাইন নিরাপদে খালি করে দিতে তাঁরা রাজ্য সরকারকে বলেছেন যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। 


রেল লাইনের আশেপাশে ও স্টেশন চত্বরের কাছে ধরনায় বসে রয়েছেন প্রতিবাদীরা। এরই মধ্যে ট্রেন চললে তাঁরা রেল লাইনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন বা রেল কর্মীদের আক্রমণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অরুণ কুমার। রাজ্য সরকারকে এই সমস্ত বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছেন তিনি। নইলে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়, তাও জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা দফায় দফায় ধর্না দিচ্ছেন। 


বিকেইউয়ের (রাজেওয়াল) ব্লক সভাপতি হাজুরা সিং ও এই আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক শম্ভ‍ু বলেছেন, মানুষ ক্ষুব্ধ এবং দিনের বেলা ৫ হাজারের মতো মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। ২১ অক্টোবর ৩০টি কৃষক ইউনিয়ন স্থির করেছিল যে, মালবাহী ট্রেনের লাইন খালি করে দেওয়া হবে। এরপর আন্দোলনকারীরা চলে যান প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু রেলকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার ফলে তিনদিন চলার পর মালবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দেয় ভারতীয় রেল। রাজ্য সরকার কৃষকদের সরে যেতে বললেও তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড়। ট্রেন বন্ধ থাকার ফলে রেলের ক্ষতিও হচ্ছে। সেপ্টেম্বর ২৪ থেকে এ পর্যন্ত উত্তর রেলের ক্ষতির পরিমাণ ৮৯১ কোটি টাকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী– ভারতীয় রেলের ক্ষতি হয়েছে এ পর্যন্ত ২২২০ কোটি টাকা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only