সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

অর্ণবকে নিয়ে সবাই সরব তবে সিদ্দিকীকে নিয়ে নয় কেন? প্রশ্ন সাংবাদিক সিদ্দিকী পরিবারের



লখনউ, ৯  নভেম্বরঃ রিপাবলিক টিভির কর্ণধার অর্ণব গোস্বামী গ্রেফতার হতেই গেরুয়া শিবিরের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রের তাবড় তাবড় মন্ত্রীরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অর্ণবের গ্রেফতারিকে ‘জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। অথচ, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের হাথরসে যাওয়ার পথে সিদ্দিকী কাপ্পান নামে এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ। অর্ণবের গ্রেফতারি নিয়ে গেল-গেল রব তোলা গেরুয়া ব্রিগেড আশ্চর্যজনকভাবে চুপ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে। আর তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্দিকীর পরিবার। তাদের প্রশ্ন, এক সাংবাদিকের (অর্ণব) গ্রেফতারি নিয়ে গেরুয়া শিবিরের এত মাথাব্যথা অথচ আর এক সাংবাদিকের (সিদ্দিকী) গ্রেফতারি নিয়ে তাদের প্রবল উদাসীনতা। গেরুয়া শিবিরের এই দু’মুখো নীতি কেন?


হাথরস যাওয়ার পথে চলতি বছরের ৫ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গ্রেফতার করে সাংবাদিক সিদ্দিকীকে। পুলিশের দাবি, দলিত কিশোরীকে নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় অশান্তি তৈরির জন্যই তিনি হাথরস যাচ্ছিলেন। সেজন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন্দি করে রাখা হয়েছে মথুরা জেলে। গত এক মাস ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে সিদ্দিকীকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করেও সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারেননি তাঁর স্ত্রী রেহাইনা। মথুরা আদালত সিদ্দিকীর পরিবার ও বন্ধুদের তাঁর সঙ্গে দেখার অনুমতি দেয়নি। 


ক্ষুব্ধ রেহাইনার প্রশ্ন, ‘তাঁর (সিদ্দিকী) অপরাধটা কী? আমি তাঁর সঙ্গে অন্তত একটিবার দেখতে চাই। যদিও ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে হয় তাতেও আপত্তি নেই। সিদ্দিকী ডায়াবেটিক রোগী। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছি। আমি আমার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি।’ কেরল ইউনিয়ন ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট (কেইউডব্লিউজে)-এর দিল্লি শাখার সম্পাদক সিদ্দিকী একটি মালায়লম পোর্টালের সাংবাদিক। সিদ্দিকী সহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ। তাঁদের ৪ জনের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) ধারা প্রয়োগ করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। দেওয়া হয় দেশদ্রোহিতার ধারাও। 


সিদ্দিকীর আইনজীবীর অভিযোগ, এক মাস হয়ে গেল তাঁর মক্কেলের জামিনের জামিনের আবেদনের শুনানি পর্যন্ত হল না। সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। সেখানে সিদ্দিকীর জামিনের আবেদনের দ্রুত শুনানির পক্ষে আর্জি জানানো হয়। শুধু তাই নয়, যেভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে তা নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠনটি। ১৬ নভেম্বর মামলাটি শুনবে শীর্ষ আদালত। 


সিদ্দিকীর স্ত্রীর প্রশ্ন, সম্প্রতি রিপাবলিক টিভির কর্ণধার অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। অথচ তাঁর স্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে একটি কথাও হচ্ছে না। আইন তো এক-এক জনের জন্য এক-এক রকম নয়। অনেক মন্ত্রী অর্ণবের গ্রেফতারিকে জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। অথচ তাঁর স্বামীকে নিয়ে তাঁরা একটি কথাও বলছেন না। এই একই মন্ত্রীদের কাছে তাঁর স্বামীর মুক্তির আবেদন করা হলে তাঁরা নীরব থাকছেন। এই দু’মুখো নীতি কেন? কেন আমার স্বামীকে সন্ত্রাসী ধারা দেওয়া হল?  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only