বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

প্রয়োজনের অতিরিক্তপরিশুদ্ধ জল স্বাস্থের পক্ষে হানিকারক! জেনে নিন বিস্তারিত



নয়াদিল্লি, ১৮ নভেম্বরঃ নয়া প্রযুক্তিতে জল পরিশোধন করে আমরা নিশ্চিন্ত থাকি বোধহয় স্বাস্থ্যকর জলপান করছি। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতির ত্র‍ুটিগুলো সম্পর্কে আমরা একেবারেই ওয়াকিবহাল নই। অতিরিক্ত পরিশুদ্ধ জল জীবনহানিকর রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে তাঁর সুফল-কুফল নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। বাড়িতে ‘আরও’ বা রিজার্ভ অস্মোসিস যুক্ত ফিল্টার এখন খ‍ুবই জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু এই ‘আরও’ থেকে নির্গত জল কতটা স্বাস্থ্যকর এটা জেনে নেওয়া দরকার। 


আমাদের প্রপিতামহরা নদীতে জল দেখেছেন, পিতা কুঁয়োর জল দেখেছেন, আজকের প্রজন্ম বোতলে জল দেখছে....কিন্তু এঁদের সন্তানরা জল কোথায় দেখবে? এর জবাব বোধহয় কেউই দিতে পারবে না। পৃথিবীতে ক্রমশ জলস্তর নেমে যাচ্ছে। এ সত্যিটা আমরা এখন০ সবাই জানি। কিন্তু এ নিয়ে আমরা কেউই চিন্তা করি না। ফলস্বর‍ূপ, ‘আরও’ সিস্টেমে জলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং এরফলে স্বাস্থ্যহানির কথাও আমরা চিন্তাভাবনা করা বন্ধ করে দিয়েছি। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস-এর মতে, যদি এক লিটার জলে (টিডিএস বা টোটাল ডিসলভ সলিড) মোট দ্রবীভূত কঠিন বস্তুর মাত্রা ৫০০ মিলিগ্রামের কম হয় তবে সেই জল পানের যোগ্য। এই মাত্রা যদি ২৫০ মিলিগ্রামের কম হয় তাহলে জলে দ্রবীভূত খনিজ পদার্থ থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি লিটার জলে টিডিএসের মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রামের কম হওয়া প্রয়োজন। যদি জলে টিডিএস মাত্রা ১০০ মিলিগ্রামের কম হয় তাহলে সেই জলে দ্রুত ক্ষতিকর পদার্থ সহজেই দ্রবীভূত হতে পারে। প্লাস্টিকের বোতলে বন্ধ পানীয় জলে টিডিএস কম হলে প্লাস্টিকের কণাও ওর সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখন প্রশ্ন হল জল যে শুদ্ধ সেটা সাধারণ মানুষ বুঝবেন কি করে?

 

‘আরও’ (RO) যুক্ত জল পান করা এখন ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ ধারণা জল যদি মিষ্টি হয় তাহলেই স্বাস্থ্যকর এবং জল পরিষ্কার রাূতে ‘আরও’ তো হতেই হবে। কিন্তু যে ‘আরও’কে আপনি স্বাস্থ্যকর মনে করেন সেটা কতটা স্বাস্থ্যকর এটা আমরা ভাবি না। বাড়ির ‘আরও’ থেকে নির্গত জলপান করার আগে টিডিএস-এর মাত্রা জানা দরকার। হতে পারে ওই জলে টিডিএসের মাত্রা আপনার চিন্তার কারণ হয়ে উঠবে।


আসলে জলকে স্বাদপূর্ণ করার জন্য ‘আরও’ সিস্টেম জলের টিডিএসকে কমিয়ে দেয়। টিডিএস ৬৫ থেকে ৯৫-এ নিয়ে গেলে জলে মিষ্টতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ‘আরও’ জলের মিনারলসকেও শুষে নেয়। বেশিরভাগ মানুষই এই জল পান করেন। ওয়াটার কোয়ালিটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে সদস্য এনজিটি ‘আরও’ র বিরুদ্ধে মামলা লড়তে গিয়ে জানায়, দেশের ১৩ রাজ্যের ৯৮ জেলায় ‘আরও’ প্রযুক্তিতেই জলকে পানের যোগ্য করা হয়। এখন জানা দরকার ‘আরও’ বা রিজার্ভ অস্মোসিস প্রক্রিয়াটা কি। পাতন, জি-আয়োনাইজেশন এবং ঝিল্লি ফিল্টারিংয়ের মতো প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে জল মিনারেল মুক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও জলকে কতটা দূষণমুক্ত করতে পারে এই ‘আরও’ পদ্ধতি তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। অর্থাৎ ‘আরও’ পদ্ধতিতে জলকে পরিশোধন করতে গিয়ে জলের ৮০ শতাংশ গুণমানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।


সোজা কথায়, জল যদি স্বাদহীন, গন্ধহীন এবং রংহীন হয় তাহলেই জল শুদ্ধ এবং পানের যোগ্য বলা যায়। কিন্তু জলের মিষ্টতা বাড়াতে ‘আরও’তে জলের টিডিএস স্তর কমিয়ে দেওয়া হয়। জলে যদি টিডিএস লেবেল ১০০র কম হয় তাহলে এরসঙ্গে অন্য ক্ষতিকর বস্তু সহজেই দ্রবীভূত হয়। যা জীবনহানিকর রোগের কারণ হতে পারে। এ কারণে ‘আরও’র টিডিএস ৩৫০তে বেধে দেওয়া উচিত। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only