মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তের মৃত্যুর অভিযোগে প্রাক্তন আইসির জামিন নামঞ্জুর, ফের জেল হেফাজত



দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর: পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তের মৃত্যুর অভিযোগে প্রাক্তন আইসি প্রবীর দত্তের জামিন নামঞ্জুর করলো বোলপুর অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত। সরকারি আইনজীবী তপন দাস জানান, বোলপুর অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত পুলিশি হেফাজতে এক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন আইসির ২২ দিনের জেল হেফাজত দেয়। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর ফের অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। 


জানা গেছে,  ২০১৬ সালের ১৪ অগাস্ট রাজু থাণ্ডার নামে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে বোলপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ হেফাজতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। ঘটনার জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। থানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুঁড়তে হয়। ঘটনাটি ঘটে, বীরভূমের বোলপুর শহরের দর্জি পাড়ায়। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি ঘটনার প্রথম দিন থেকেই সোচ্চার হয়। সমিতির পক্ষে শৈলেন মিশ্র বলেন, পুলিশি লক আপে যে কোন মৃত্যু সভ্য সমাজে ঘৃণ্যতম অপরাধ।


জানা গেছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন বোলপুর থানার তদানীন্তন আইসি প্রবীর দত্ত। বিগত ১১ তারিখ অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক নরেন্দ্রপুর থানায় আত্মসমর্পণ করেন। সোমবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে বোলপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়। এর আগে অভিযুক্তের ৭ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। 


জানা গেছে, এই মামলায় প্রথমে পুলিশ একটি ইউ ডি কেস রুজু করে। নান্টু বলে একজন গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধরা পড়ে যে মৃতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তারপর তদানীন্তন এস আই অরবিন্দ চক্রবর্তী একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করেন। গোটা বিষয়টি সি আই ডির হাতে যায়। তদন্তের পর ওয়ারেন্ট জারি হয়। তারপর প্রবীর দত্ত নরেন্দ্র পুর থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তিনি অসুস্থ তাই তাঁকে এম্বুলেন্সে আনা হয়। 


এলাকাসূত্রে জানা গেছে,  মৃত ব্যক্তির নাম রাজু থাণ্ডার (২৮)। আসল বাড়ি দুর্গাপুরে। বিয়ের পর ঘর জামাই হিসেবে বোলপুরে থাকতেন। ২০১৬ সালে ১১ অগাস্ট চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন দিন পুলিশ হেফাজতে রেখেও আদালতে তোলা হয় নি। তাদের দাবি, পুলিশ ধরে নিয়ে গেলেও, মৃতকে গ্রেফতার করা হয় নি। বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে তোলা হয় নি। ১১ অগাস্টের পর  রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ পুলিশ ওই ব্যক্তিকে বোলপুর সিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করাতে গেলে, চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। 


মৃত দেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ধামা চাপা দিতে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। দর্জি পাড়ায় ছোট্ট মাটির বাড়িতে এক মেয়ে নিয়ে বাস ছিল রাজু থান্ডারের। মৃতের স্ত্রী অন্ন থান্ডার তখন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিন দিন আগে চুরির করার অভিযোগে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। স্বামী নেশাটেশা করত। এ’কদিন বাড়িতে ছিল না। জানতাম থানায় ধরে রেখেছে। কোর্টে তোলে নি। আজ শুনছি মারা গেছে। মেয়ে পুজা থাণ্ডার তখন বোলপুর বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only