বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

শিক্ষকদের নিজ জেলায় বদলির সুযোগ দিন দাবি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের কাছে



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ২০১৩ সালে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন যে ট্রান্সফার ফর্ম জমা নিয়েছিল, তাতে বলা ছিল--- যেকোনও অ্যাপ্রুভড স্থায়ী শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। ফলে যে সমস্ত শিক্ষকের পার্মানেন্ট পোস্ট ছিল, তারা সকলেই আবেদন করতে পেরেছে। যাদের এই বছর কমিশন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ট্রান্সফার দিচ্ছে এবং বাকি বিষয়গুলিরও দিতে চলেছে। কিন্তু যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার অ্যাডিশনাল পোস্ট ছিল, তারা কয়েকবছর চাকরি করা সত্ত্বেও আবেদন করতে পারেননি। অথচ কেবলমাত্র পার্মানেন্ট পোস্টে জয়েন করার জন্য, একবছর চাকরি করেও আবেদন করতে পেরেছে।

অর্থাৎ ২০০৯ সালে অ্যাডিশনাল পোস্টে জয়েন করেও আবেদন করতে পারেনি। অথচ স্থায়ী পোস্টে ২০১২ সালে জয়েন করে আবেদন করতে পেরেছেন এবং ট্রান্সফারও পেয়ে যাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, যারা অ্যাডিশনাল পোস্টে জয়েন করেছিলেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের কাউন্সেলিংয়ের সময় বলা হয়নি যে আপনি একটি অ্যাডিশনাল পোস্টে জয়েন করতে চলেছেন। তাহলে তারা আজ কী দোষ করল এবং কেন তারা চাকরি সময়কালের নিরিখে সিনিয়র হয়েও আবেদনের সুযোগ পাবেন না, প্রশ্ন তুলছেন হাই মাদ্রাসা শিক্ষকরা। 


এই দ্বিচারিতা আইন অবমাননা করার মতো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কারণ, একজন শিক্ষক যাঁর চাকরির সময়কাল বেশি, তুলনামূলকভাবে অপর একজন শিক্ষক যাঁর চাকরির সময়কাল অপেক্ষাকৃত কম, তাঁর তুলনায় ট্রান্সফারের সুযোগ বেশি পাওয়া উচিত। কিন্তু মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কেবলমাত্র পার্মানেন্ট পোস্টের উপর ভিত্তি করে ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার আবেদন গ্রহণ করছে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক ট্রান্সফার সুবিধা থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে এমন করুণ অবস্থা যে দশবছর বা ততোধিক সময়কাল ধরে চাকরি করা সত্ত্বেও অ্যাডিশনাল পোস্টে যোগদানকারী শিক্ষকরা আজ চরম দুশ্চিন্তায়, উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 


২০১১ সালে যে ট্রান্সফার বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন দিয়েছিল, তার ৫নং নিয়মে লেখা আছে, কেবলমাত্র আবেদনের বছরের প্রাপ্ত ভ্যাকেন্সির ভিত্তিতে ট্রান্সফার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কমিশনের উচিত ২০১৩ সালের আবেদনের ভিত্তিতে কেবলমাত্র ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের কাছে যে ভ্যাকেন্সি ছিল, সেই ভ্যাকেন্সিতেই ট্রান্সফার দেওয়া। কিন্তু অত্যাশ্চর্যের বিষয়, কমিশন ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত ভ্যাকেন্সিতে ট্রান্সফার দিচ্ছে। ফলে যাঁরা অ্যাডিশনাল পোস্টে জয়েন করেছেন, তাঁরা সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও উপযুক্ত ভ্যাকেন্সি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।  


প্রসঙ্গত, বিগত মার্চ মাসে বায়োসায়েন্স পাস ও পিওর সায়েন্স পাস বিষয়ের ট্রান্সফার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এ দু’টি বিষয়ের  ক্ষেত্রে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত শূন্যপদের উপরে ট্রান্সফার দেওয়া হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তাদের নিজেদের তৈরি নিয়ম নিজেরাই ভঙ্গ করেছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের এই কার্যকলাপের  ফলে কমিশনকে ঘিরে শিক্ষককুলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শূন্যপদ যদি আপডেট করা হচ্ছে, তাহলে ট্রান্সফার প্রার্থীতালিকা আপডেট করতে অসুবিধা কোথায়, বুঝতে পারছেন না বদলির আশায় থাকা শিক্ষকরা। 


উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ভ্যাকেন্সি থাকা সত্ত্বেও কেন কমিশন বরিষ্ঠ শিক্ষকদের বঞ্চিত করছে, তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কমিশনকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সকল শিক্ষককে অনলাইন পদ্ধতিতে হোম ডিস্ট্রিক্টে ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কমিশন কোনওভাবেই তাতে কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ তুলছেন শিক্ষকরা। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে ৩০০-৯০০ কিমি দূরে অনেক শিক্ষক আছেন যাদের সংখ্যাটা কম-বেশি একহাজার। তারা দীর্ঘদিন পরিবার ছেড়ে দূরের স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তাই এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা। তিনি পদক্ষেপ নিলেই এর সমাধান সম্ভব, মত হাই মাদ্রাসার ওই সমস্ত শিক্ষকের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only