শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

তারাপীঠে কালি সাধনা



দেবশ্রী মজুমদার, তারাপীঠ: দশমহাবিদ্যার দেবী হিসেবে তারা মাকে কালী জ্ঞানে পুজো দেওয়া হয়। এদিন ষড়োশোপচারে  নিশি পুজো হয় তারা মায়ের।  ভোরবেলায় ব্রাহ্ম মুহূর্তে মা তারার শীলা মূর্তিকে নানাবিধ সুরভী দ্রব্য দিয়ে স্নান করিয়ে মাকে রাজবেশ পরানো হয়। তারপর মঙ্গলারতি হয়। মঙ্গলারতি শেষ হতেই পুজো শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত পুজো চলে। দুপুরে মায়ের ভোগ নিবেদন হয়। সারাদিন পুজোর পর সন্ধ্যায় সন্ধারতি হয়। তারপর মাকে স্বর্ণালঙ্কারসহ সজ্জিত করে কালি জ্ঞানে পুজো দেওয়া হয়। পুজো শেষে বিভিন্ন পদে মাকে ভোগ নিবেদন করে কালি পুজো সাঙ্গ করা হয়। এই দিন গ্রামের গৃহবধূ থেকে মেয়েরা সন্ধ্যা প্রদীপ ও মোমবাতি মন্দির থেকে শ্মশান চত্বরে জ্বালিয়ে কামনা করেন অশুভ শক্তি বিনষ্ট করে শুভ শক্তির জয়ের জন্য।   


এবছর পৃথিবীকে করোনা মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। কালি পুজোর পর দিন অর্থাৎ রবিবার মা তারার সেবায়েতরা তারাপীঠ মন্দিরের উত্তর দিকে উদয়পুরে অধিষ্ঠিত মা কালির কাছে যায়। সেই কালিক্ষেত্রে গিয়ে তারা সাধনা করেন। শনিবার সেবায়েতরা তারাপীঠ মন্দিরে কালি সাধনা করেন। কথিত, তন্ত্র সাধনার নিয়ম অনুযায়ী, যদি কালি পুজোর দিন তারাপীঠে কালি সাধনা করেন এবং কালিক্ষেত্রে  তারা সাধনা করেন, তা হলে মন্ত্র সিদ্ধি লাভ করা যায়। এই মন্ত্র সিদ্ধি লাভ করেন সাধক বামাখ্যাপা বাবা, কৈলাশপতি নির্গমানন্দ, প্রথম আনন্দ, দ্বিতীয় আনন্দ সাধকবৃন্দ। তারাপীঠে কালি পুজো ও উদয়পুরে তারা সাধনা একইভাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বলে জানান, তারাপীঠ মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।


অন্যদিকে, কঙ্কালীতলায় মা কঙ্কালী মায়ের পুজো হয় মা কালি জ্ঞানে। ষড়োশোপচারে এদিন মায়ের পুজো হয়। তবে করোনা আবহে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় তীর্থ যাত্রীদের আগমন খুব এই দুই তীর্থ ক্ষেত্রে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only