রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

'উত্তরপ্রদেশের মতো এই রাজ্যেও একই হাল হবে জোড়া যুবরাজের', নাম না করে রাগা-তেজস্বীকে বিঁধলেন মোদি



পাটনা, ১ নভেম্বর: বিহারে নির্বাচনে প্রচারে গিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ালেন নরেন্দ্র মোদি। লালু পুত্রকে আগেই 'জঙ্গলের যুবরাজ' বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। এবার উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গও টেনে এনে কটাক্ষ করলেন রাহুল গান্ধি ও অখিলেশ যাদবকে।পাশাপাশি তেজস্বীর 'ডবল ইঞ্জিন' কটাক্ষেরও জবাব দিলেন মোদি। পাল্টা 'ডবল যুবরাজ' বলে কটাক্ষ করলেন রাহুল ও তেজস্বীকে। 


আগামী ৩ তারিখ বিহারে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। তার আগে জমজমাট প্রচারের ময়দান।প্রচারের শেষ দিনে প্রথম থেকেই কংগ্রেস ও আরজেডি-কে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানালেন বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার নরেন্দ্র মোদি। রাহুল-তেজস্বীকে আক্রমণ করতে গিয়ে টেনে আনলেন উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ। বললেন, 'বছর তিন চারেক আগে উত্তরপ্রদেশেও ২ যুবরাজ হাত মিলিয়েছেন।বাসের মাথা থেকে হাত দেখিয়েছিলেন তাঁরা। উত্তরপ্রদেশের মানুষ তাঁদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এবার বিহারেও দুই যুবরাজ হাত মিলিয়েছেন। বিহারের মানুষও ওঁদের ধরাশায়ী করে দেবে।' 


উল্লেখ্য ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে জোট বাধে কংগ্রেস ও সপা। যৌথ ভাবে প্রচারও সেরেছিলেন রাহুল-অখিলেশ। কিন্তু ভোটের ফলে হতাশ হতে হয় তাঁদের। রাজ্যে বড় ব্যবধানে জেতে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গেই মোদির দাবি, উত্তরপ্রদেশের মতো বিহারেও দুই যুবরাজ পরাস্ত হবেন।


ভোট প্রচারের ময়দানে বিহারে বিজেপি-জেডিইউ জোটসঙ্গীদের কাছে প্রথমে তেমন একটা গুরুত্ব পাননি তেজস্বী। কিন্তু দিন যত এগোতে থাকে, ততই তাদের কাছে মাথাব্যথার কারণ হতে থাকেন তেজস্বী। তাই লালুপুত্রকে মোকাবিলা করতে নির্বাচনী রণকৌশল ঢেলে সাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আগে তাদের প্রচার ছিল দলকেন্দ্রিক, এবার তা হবে তেজস্বীকেন্দ্রিক। রবিবার ছাপড়ার জনসভায় ফের তার আঁচ মিলল। রাগার নাম না করেই মোদি বলেন, এখন এখানে জোড়া জোড়ায় যুবরাজ। তাঁদের মধ্যে একজন জঙ্গলরাজের যুবরাজ।' 


পাশাপাশি তেজস্বীর কটাক্ষের জবাব দিয়ে মোদি বলেন, ''বিহারে ডবল ইঞ্জিন সরকার। যারা মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডবল ইঞ্জিনের সরকার মানুষের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আর ডবল যুবরাজ নিজেদের সিংহাসন বাঁচাতে লড়ছে।''


অন্যদিকে 'যুবরাজ' কটাক্ষের জবাব না দিলেও, তেজস্বী টেনে এনেছেন বেকারত্ব প্রসঙ্গ। লালুপুত্র এদিন বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু বলবেন কী ডবল ইঞ্জিনের সরকারের আমলেও বিহারে বেকারত্ব ৪৬ শতাংশ কেন?' তবে শাসকশিবির যতই ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে, তেজস্বীর মুখে তখন শোনা যাচ্ছে রোজগার, শিক্ষা, ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যর কথা। এমনকী শাসকরা নির্বাচনী প্রচারে টেনে এনেছেন আরজেডি সুপ্রিমো লালুযাদবের প্রসঙ্গও। তখন তেজস্বীর পাল্টা জবাব, আমি রাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলতে চাই। ওরা অতীতে বসে আছেন।' করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই তেজস্বীর সভায় উপচে পড়া ভিড়, এখন প্রায় রোজদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only