সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

বুধবারেই চালু লোকাল ট্রেন, জেনে নিন খ‍ুটিনাটি বিষয়গ‍ুলি



আসিফ রেজা আনসারী

দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে প্রায় আট মাস। করোনা আবহে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ ছাড়া কেউই চড়তে পারেননি লোকাল ট্রেনে। নিত্যযাত্রীদের প্রবল চাপ ও রাজ্যের উদ্যোগে অবশেষে ফের চালু হচ্ছে লোকাল ট্রেন। আগামী বুধবার থেকে চালু হবে। এদিকে রেলের তরফে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। ট্রেন পরিষ্কার করা থেকে, স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের রোড-ম্যাপ, এনিয়েই প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। শিয়ালদা, হাওড়া প্রভৃতি স্টেশনে এখন সাজো সাজো রব।


শুক্রবার রেলের তরফে জানানো হয়েছিল যে, যাঁরা রেলের মান্থলি টিকিট কেটেও লকডাউনের জেরে ট্রেনে যাতাযাত করতে পরেননি, তাঁদের টিকিটের মেয়াদ বাড়ানো হবে। সেই মতো সোমবার বাড়তি সময়ের জন্য টিকিট প্রদান করা শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও লিঙ্ক-এর সমস্যার জন্য মানুষ হয়রান হলেও সর্বপরি সিজিন টিকিট ‘রিন্যুয়াল’ পরিষেবা চালু হয়েছে। শিয়ালদা স্টেশনে সকাল আটটা থেকেই নতুন করে সিজন টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে রেলের বুকিং অফিসার জানান, লকডাউনের আগে কোনও যাত্রীর সিজিন টিকিটের মেয়াদ যদি ১০ দিন বাকী থাকে তবে তাঁকে ১০ দিনের বাড়তি টিকিট দেওয়া হচ্ছে। একদিন বাকি থাকলেও একদিন বাড়তি সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। সেই মতো টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। 


তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সব স্টেশনেই টিকিট কাউন্টার খুলে গিয়েছে। তবে কাউন্টার থেকে শুধুমাত্র শহরতলির টিকিটই কাটা যাবে। কাউন্টার থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণির কোনও টিকিট দেওয়া হবে না। তবে লালগোলা, রানাঘাট রুটের টিকিট কাউন্টার থেকে কাটা যাবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আরপিএফ-এর তরফে মানুষকে বারবার করে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন টিকিট কাউন্টারের মধ্যে যাতে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়, তারজন্য রেলিং দেওয়া শুরু হয়েছে। দিনরাত এক করে কাজ করছেন রেলকর্মীরা।


রেলের তরফে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ডিভিশনে মোট ৬৯৬টি ট্রেন চালাবে। প্রথম পর্যায়ে শিয়ালদা ডিভিশনে ৪১৩টি, হাওড়া ডিভিশনে ৪৩৮ টি ও খড়গপুর ডিভিশনে ৮১ টি লোকাল ট্রেন চালানো হবে। আরও জানা গিয়েছে, রেলের যে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছিল তা বুধবার থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।


উল্লেখ্য, লোকাল ট্রেন চালুর আগে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এ দিন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব বৈঠক সারেন। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, প্রত্যেক প্লাটফর্মে গেটের মুখে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাখা হবে। তারাই কোভিড প্রটোকল অনুযায়ী স্টেশনে প্রবেশের পথ নিশ্চিত করবে। ৪ থেকে ৬ জন মোকাবিলা বিপর্যয়ের মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য থাকবে স্টেশনে। স্টেশনে ঢোকার মুখে থার্মাল স্ক্রীনিং করতে হবে। বাধ্যতামূলক করতে হবে মাস্ক। সোমবার বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আরও একটি বৈঠক আছে সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


শেষে যে কথা বলি, বুধবার থেকে ট্রেন চালু হওয়ার আগে ইতিমধ্যে জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ট্রেনগুলির প্রতিটি কোচে চলছে জীবানুমুক্ত করণের কাজ। যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত জীবানুমুক্ত করণের কাজ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। চলছে ট্রেনে কামরার আসন চিহ্নিতকরনের কাজও।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only