রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

উৎসবের মরশুমে সংক্রমণ বাড়তেই ৫ রাজ্যে জারি রাত্রিকালীন লকডাউন



নয়াদিল্লি, ২২ নভেম্বর‌: ভারতে ফের জাঁকিয়ে বসছে করোনা ভয়। সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের অনেকগুলি রাজ্য নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে। ভারতের কয়েকটি শহরের করোনা-ছবি রীতিমতো উদ্বেগজনক। আর তা জাগিয়ে দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। দেশে কি লকডাউন ঘোষণা করা হবে? ইতিমধ্যেই ইউরোপের বেশ কয়েকটা দেশে বাড়ছে সংক্রমণ। তাই তারা আর ঝুঁকি নিতে চায়নি। লকডাউন জারি করে দিয়েছে। সেই দেশের মধ্য রয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, স্পেন, ইতালি। 


এ দেশের কয়েকটি বড় বড় শহরও কড়া বিধি জারি করেছে। দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর, আহমদাবাদ, ইন্দোরের মতো শহরগুলি তার মধ্যে রয়েছে। সেখানে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আর তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেখানকার প্রশাসন। পরিস্থিতি সামলাতে সরাসরি লকডাউন না করলেও কড়া বিধিনিষেধ চালু করেছে। যেমন দিল্লিতে মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। দিল্লিতে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে সেখানে যদি লকডাউন নাও হয়, কিছু বিধিনিষেধ তো থাকছেই।

 

গুরগাঁওতে কয়েকদিন আগে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছিল। আর তারপরেই খারাপ খবর আসতে শুরু করে। কয়েকদিন ক্লাস করতে না করতেই ১৭৪ জন পড়‍ুয়ার মধ্যে করোনা সংক্রমণ হয়। বাদ যাননি শিক্ষকরাও। ১০৭ জন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হন। তাই হরিয়ানা সরকার সব স্কুল ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে। আহমদাবাদ রাত ন’টা থেকে সম্পূর্ণ কারফিউ জারি করে দিয়েছে। চলবে পরদিন সকাল ছ’টা পর্যন্ত। মুম্বই পুরসভা তাদের অন্তর্গত এলাকায় সব স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে থানেও। 


২১ নভেম্বর থেকে ইন্দোর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাইট কারফিউ চালু করার। তবে জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। ওই রাজ্যগুলিতে ভোপাল, গোয়ালিয়ার, বিদিশা, রতলমে শহরেও নাইট কারফিউ চালু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, সেখানে গোটা রাজ্যে লকডান হবে না।


সংক্রমণে কয়েক দিন ধরে নাজেহাল করে, ভারতে করোনায় অ্যাক্টিভ আক্রান্ত কমছে। দৈনিক আক্রান্তের তুলনায় টানা কিছুদিন ধরে সুস্থ হয়ে ওঠা কোভিড জয়ীর সংখ্যা বেশি হওয়ায়, অ্যাক্টিভ আক্রান্ত দেশের মোট আক্রান্তের ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সেইসঙ্গে সারাদেশে সুস্থতার হার বেড়েছে। কিন্তু করোনার বিরুদ্ধে এই সাফল্যে চোনা ফেলেছে কয়েকটি শহর। যার সর্বাগ্রে দিল্লি।


তবে গোটা দেশে যে পূর্ণ চেহারায় লকডাউন ফের ফিরছে, এমনটা নয়। দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর, আহমদাবাদ, ইন্দোরের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর লকডাউনের পথই অনুসরণ করতে চলেছে। দোকানপাট, ব্যবসাপত্তর, রুটিরুজি, যানবাহন বন্ধ করে, পুরোপুরি বন্ধের চেহারায় লকডাউন নয়। তবে কোভিড বিধি মেনে যা হতে চলেছে, তা লকডাউনেরই নামান্তর। এক-একটি শহর এক-এক রকম ভাবে লকডাউন করবে। সেখানকার পরিস্থিতি পরখ করে।


এ দিকে পশ্চিমবঙ্গে রোজ যতজন আক্রান্ত হচ্ছে, তার থেকে বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটের মতো উৎসবে মানুষের ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। তবে এর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। রাজ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না অনেকেই। এটা নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। রাস্তাঘাটে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হোক বা মাস্ক পরা হোক তা নিয়ে প্রচার চালালেও সকলের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়নি। আর তার ফলেই সংক্রমণ আটকানো যাচ্ছে না। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only