শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

১৯৭১ সালের পর একজনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করেনি বললেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ কথিত বাংলাদেশি অণুপ্রবেশকারীদের কূনও ‘ঘুসপেটিয়া’ কখনও বা ‘উইপোকা’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সময়েই তাদের দেশ থেকে তাড়ানোর হুংকার ছেড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রথম সারির নেতা অমিত শাহ। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সফরে এসেও অমিত শাহ হুমকির সুরে বলে গিয়েছেন, এনআরসি হবে, এবং বেছে বেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বিতাড়ন করা হবে।


ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক হাওয়া গরম করতে চাইছেন, ঠিক তখনই প্রতিবেশী ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একেবারেই অন্য দাবি করছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান ‘নিউজ ১৮’ ছাড়াও কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে একজন বাংলাদেশিও ভারতে অনুপ্রবেশ করেনি। বাংলাদেশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অমিত শাহ বলেছেন, ভারত থেকে বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে। তাদের আপনারা গ্রহণ করবেন কি না? জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমি জোরের সঙ্গে দাবি করছি, ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে একজনও বেআইনিভাবে ভারতের প্রবেশ করেনি। ভারত আমাদের খ‍ুব ভালো বন্ধু। আমি মনে করি, এই বিষয়গুলোর প্রভাব দুই দেশের সুসম্পর্কে পড়বে না।’ এনআরসি এবং সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এক বছর আগেও ঠিক একই কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও। অসমে এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর যখন দেখা গেল ১৯ লক্ষ নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তখনই কাদের মন্তব্য করেছিলেন। অসমে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া ১৯ লক্ষ মানুষ ভারতেরই নাগরিক। কারণ, আমরা জোরের সঙ্গেই বলছি, ১৯৭১ সালের পর কোনও বাংলাদেশি দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে স্থায়ী হয়নি। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মন্তব্যেও একথা স্পষ্ট হয়ে গেল সংঘ পরিবার ও বিজেপি কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের নীতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।


এ কথা ঠিক, বিজেপি প্রচারিত এনআরসি-র বিশেষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরার মতো রাজ্যে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নিউজ ১৮’-কে বলেন, এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্র ভাবিত নই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বেআইনিভাবে কেউ ভারতে যানি। দেশভাগের সময় কিছু মানুষ ভারতে চলে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তারপর নয়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুনরায় বাংলাদেশি ঘুসপেটিয়ার কথা বলে নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন। 


এই নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় প্রচারেরও উদ্যোগ নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তারই মধ্যে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন জোরাল দাবি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। আসাদুজ্জামান পালটা প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কেন ভারতে অনুপ্রবেশ করতে যাবেন? বাংলাদেশ তো একটা গরিব রাষ্ট্র নয় যে সেখান থেকে মানুষ অনুপ্রবেশ করে ভারতের আশ্রয় নেবেন। বর্তমানে আমাদের জিডিপির বৃদ্ধি এবং মাথা পিছু আয় ভারত-সহ অনেক দেশের থেকেই ভালো। জীবন ধারণের মানও যথেষ্ট উন্নত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only