শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

১৩ বছর অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি উপত্যকা, ‘মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অর্ধেকেরও বেশি গাজাবাসী’



জেনেভা, ২৭ নভেম্বরঃ দেখতে দেখতে আরও একটা বছর শেষ হতে চলল। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষশেষের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করল রাষ্ট্রসংঘ। ইসরাইলি অবরোধে গাজাবাসীর মানবেতর জীবনযন্ত্রণার রিপোর্ট সাবমিট হল রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভায়। যাতে বলা হয়েছে, ২০ লক্ষ গাজাবাসীর মধ্যে ১০ লক্ষাধিক মানুষই দারিদ্র্য সীমার নীচে রয়েছেন। যা গাজার জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশের মতো। ২০০৭ সাল থেকে টানা ১৩ বছর অবরুদ্ধ করে রেখে ফিলিস্তিনের মূল ভূখণ্ড এবং বহির্বিশ্ব থেকে গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ইসরাইল। 


ফলে উপত্যকার বাইরে পা রাখতে পারেন না গাজাবাসী। জল-স্থল ও আকাশপথে সবরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্যভাবে বললে পৃথিবীর মানচিত্রে থেকেও ভিনগ্রহী হয়ে রয়েছেন ২০ লক্ষ গাজাবাসী। সেই সুযোগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও কট্টরপন্থী ইহুদি-যায়নবাদীরা গাজাবাসীর ওপর যে নারকীয়তা, বর্বরতা ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই অবরোধের জেরে সেখানে ১৬০০ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। 


বুধবার জেনেভা থেকে রাষ্ট্রসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল গিয়ে ‘কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শিরোনামে জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ২০০৭-২০১৮ সালের তথ্য সংবলিত রিপোর্ট জমা দেন। অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ সালের ডেটা এতে নেই। তাহলে পরিসংখ্যান আরও বেদনাদায়ক হত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হল, গাজা উপত্যকার এই দুর্দশার জন্য দায়ী যে ইসরাইল, তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বা দেশটিকে চাপ দিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে না। প্রতিবছর কেবল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রকাশ করেই দায় সারছে রাষ্ট্রসংঘ। এসব তথ্য তো মিডিয়া ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছেও আছে। তাদের কাছে বরং আরও বিস্তারিত পরিসংখ্যান আছে। তাহলে আর রাষ্ট্রসংঘের মতো ঢাউস প্রতিষ্ঠানের কী প্রয়োজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only