সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

কুণাল কামরার অবস্থানকে সমর্থন বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীর



নয়াদিল্লি, ১৬ নভেম্বর‌: আদালত অবমাননার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তা সত্ত্বেও মাথানত করতে নারাজ স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। নতুন একটি পোস্ট করে সাফ জানিয়ে দিলেন, গোটা ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। তাঁর এই অনড় অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার সংগঠন ও বুদ্ধিজীবী। আহমদাবাদ-ভিত্তিক ফ্রি সিড্রিক প্রকাশ এনজিওর প্রতিনিধিত্ব করছেন ‘প্রশান্ত’। তিনি বলেছেন যে বিচারককে কেবল সমালোচনা করেছিলেন বলেই কুণাল আদালত অবমাননার জন্য দায়ী হতে পারেন না। যদি কোনও নাগরিক আদালতের রায় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করে সন্তুষ্ট বা সন্তুষ্ট না হন, তবে অবশ্যই তার মত বা দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার বা জানানোর অধিকার রয়েছে।


জামায়াতে ইসলামি হিন্দ (জেআইএইচ) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন, কুণাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় উত্থাপন করেছেন। এই বিষয়ে তাঁর ট্য‍ুইট যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে তবে এটি সত্য যে আরও অনেক গুরুতর মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে যার বিষয়ে শীঘ্রই শুনানি হওয়া দরকার। এগুলি ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত।


দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের (ডিএমসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. জাফরুল ইসলাম খান কুণাল কামরার অবস্থানকে সমর্থন করে বলেছেন, কৌতুক অভিনেতা ঠিক বলেছেন, কথা বলার দিক থেকে। আপনি তার ভাষার সঙ্গে একমত না হতে পারেন। তবে তার উত্থাপিত বিষয়টি আমি সমর্থন করি। এটি একটি খুব বৈধ ইস্যু।  


অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশ মুশাওয়ারত (এআইএমএমএম) -এর সভাপতি নায়েদ হামিদ এ সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, দুর্ভাগ্যক্রমে সুপ্রিম কোর্টের কিছু বিচারক মানুষকে এমন ধারণা তৈরি করতে বাধ্য করেছেন যে সর্বোচ্চ আদালত সুবিধাভোগী মানুষের আদালতে পরিণত হয়েছে। অর্ণব গোস্বামী এবং কুনাল কামরার বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের কয়েক শতাধিক বিচারাধীন আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।


অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এস আর দারাপুরি বলেছেন, অর্ণব গোস্বামীর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেছে, সব ক্ষেত্রে সমানভাবে তার প্রয়োগ করা উচিত। ভারভরা রাও, অ্যাডভোকেট সুধর ভরদ্বাজ এবং আনন্দ তেলতম্বদের কেন কোনও জামিন মঞ্জুর হয়নি? তারা পলাতক নয়। তারা পালাতেও পারবে না।


উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর জামিন মঞ্জুর প্রসঙ্গে একাধিক ট্য‍ুইট করেছিলেন কুণাল কামরা। তাঁর সেই মন্তব্য শীর্ষ আদালতের মর্যাদা খর্ব করছে বলে অভিযোগ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আদালত আবমাননার মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবারই এই বিষয়ে অনুমতি দেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। কিন্তু এরপরও নিজের অবস্থানে অনড় কুণাল। তিনি এমন ট্য‍ুইট করে ভুল করেছেন, তেমনটা মানতে রাজি নন। আর ঠিক এই কারণেই জানিয়ে দেন, ট্য‍ুইটটি তুলে নেওয়া কিংবা ক্ষমা তিনি চাইবেন না। কে কে বেণুগোপালকে উদ্দেশ্য করে একটি লম্বা চিঠি পোস্ট করেন তিনি। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখেন, কোনও আইনজীবীর প্রয়োজন নেই, কোনও ক্ষমা চাওয়া নয়, কোনও জরিমানা নয়, কোনও জায়গার অপচয় নয়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only