মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

আজ কিংবদন্তী অভিনেতা রবি ঘোষের জন্মদিন, বিশেষ এই দিনে দেখে নেওয়া যাক তাঁর কিছু অজানা তথ্য



কলকাতা, ২৪ নভেম্বর: আজ কিংবদন্তী অভিনেতা রবি ঘোষের ৮৯তম জন্মদিন। ১৯৩১ সালে আজকের দিনে জন্মেছিলেন বাংলা সিনেমার এই প্রবাদপ্রতীপ শিল্পী। কমিডি থেকে সিরিয়াস রোল কিংবা ভিলেন সমস্ত ভূমিকাতেই সপ্রতিভ ছিলেন রবি ঘোষ। অভিনয়ের শুরুর দিকে তাঁর কথায় ছিল বাংলাদেশের স্পষ্ট টান। পরে অবশ্য বহু চেষ্টা করে হয়ে ওঠেন খাঁটি কলকাত্তাইয়া। সাউথ সুবার্বান স্কুল, আশুতোষ কলেজে পড়াশোনার পর ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯, টানা ছ-বছর রবি চাকরি করেন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। কিন্তু যিনি অভিনয়ের আগুন নিয়ে জন্মান তাঁকে কি দশটা-পাঁচটার চাকরির বাঁধন বাঁধতে পারে? অঙ্গার নাটকে তাঁর অভিনীত চরিত্র সনাতন দেখার পরেই চাকরিতে ইতি। 


সত্যজিৎ রায়ের 'গুপি গাইন বাঘা বাইন' মুভি হোক কিংবা তপন সিনহা পরিচালিত 'গল্প হলেও সত্যি' সব চরিত্রেই দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল। ১৯৫৯ সালে আহ্বান মুভিতে একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ। এরপর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে অচিরেই লাইমলাইটে। ১৯৬৮ তে গুপি গাইন বাঘা বাইন সিনেমা তাঁকে সাফল্যের সরণিতে নিয়ে যায়। এরপর একে একে মেঘ (১৯৬১), অভিযান (১৯৬২), শেষ পাহাড় (১৯৬৩), কাপুরুষ-মহাপুরুষ (১৯৬৫), সবুজ দ্বীপের রাজা (১৯৭৩), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), মৌচাক (১৯৭৪), বসন্ত বিলাপ (১৯৭২) প্রভূতি ছবিতে অসামান্য অভিনয় প্রতিভার ছাপ রাখেন তিনি।


পাঁচ কি ছয়ের দশকের কথা। তখনকার ডাকসাইটে অভিনেত্রী ছায়া দেবী একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন রবি ঘোষ দস্তিদারকে ‘ছবিতে কী করে এলে রবি'? আন্তরিক জবাব এসেছিল তৎক্ষণাৎ, ‘ঢুলুদা মানে পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় নিয়ে এসেছেন আমায় সিনেমাতে। সনাতনের চরিত্রে আমার অভিনয় ঢুলুদাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘কিছুক্ষণ'-এ ছোট একটি চরিত্রে আমায় অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন।‘ সেই ছোট্ট চরিত্রেই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন রবি। জন্মসূত্রে যাঁর নাম রবি ঘোষ দস্তিদার। তারপরেই ১৯৬২-তে দাপুটে তিন পরিচালক সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ, অসিত সেনের যথাক্রমে 'অভিযান', 'হাঁসুলিবাঁকের উপকথা', 'আগুন' ছবিতে পরপর দেখা গেছিল তাঁকে।;


শুধু বড় পর্দাতেই নয়। নাট্যমঞ্চেও রবি ঘোষ চুটিয়ে অভিনয় করেছেন। ফলে নাট্য গজতে তাঁর অভিনয় আজও ভোলেননি নাট্যপ্রেমী দর্শকরা। অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাংলা সিনেমা পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। এরমধ্যে অন্যতম নিধিরাম সর্দার। বাংলা সিনেমায় তাঁর অন্যতম অবদানের জনে ১৯৯৮ সালে আনন্দলোক পুরস্কার পেয়েছিলেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only