বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

আজ তিতুমীরের শাহাদত দিবস



আহমদ হাসান (ইমরান)

আজ ১৯ নভেম্বর। শহিদ সৈয়দ মীর নিসার আলি তিতুমীরের শাহাদত দিবস। সালটি ছিল ১৮৩১। বাংলায় তখন রমরমিয়ে চলছে ব্রিটিশ রাজত্ব। বাংলার হিন্দু অভিজাত শ্রেণি তখন প্রবলভাবে ইংরেজ শাসনের সমর্থক। অখণ্ড বাংলায় জমিদারদের বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু। তাঁরা রাজশক্তি ব্রিটিশদের সহায়তায় বাংলার গরিব কৃষকদের (এরা ছিলেন মুসলমান এবং নমশূদ্র হিন্দু) ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতেন। এই কৃষককুলকে মানুষ বলেই মনে করা হত না। তিতুমীর এই মুসলমান ও কথিত নিম্নশ্রেণির হিন্দু চাষিদের একতাবদ্ধ করেছিলেন। বাংলায় নীলকর সাহেবদের অত্যাচার দমনে তিতুমীর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফলে একই সঙ্গে তিনি ইংরেজ এবং অভিজাত ও অত্যাচারী জমিদারদের বিরাগভাজন হন।


মীর নিসার আলি শুধু সমাজ সংস্কার আন্দোলনই করেননি। তিতুমীর ছিলেন কুরআনের হাফিজ এবং একজন ইসলামি স্কলার। তিনি মুসলিম সমাজ থেকে বহু অ-ইসলামি কুসংস্কার বিদূরিত করেছিলেন। তাদের মনে সাহস জুগিয়েছিলেন যে, একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কোনও প্রভু নেই। অত্যাচারী জমিদার কিংবা ইংরেজরা আমাদের ‘প্রভু’  হতে পারে না। তিনি এও বলতেন, সব মানুষ সমান। সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। কোনও মানুষ অন্য মানুষের প্রভু হওয়ার যোগ্য নয়।


তৎকালীন গণমাধ্যমও একপেশেভাবে এবং জমিদার ও ব্রিটিশদের স্বার্থের বাহক হিসেবে মীর নিসার আলি তিতুমীরকে ভরপুরভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিতুমীরের প্রভাব শুধু ২৪ পরগনা নয়, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কোচবিহার এবং বর্তমান বাংলাদেশেরও বেশ কয়েকটি জেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 


তিতুমীর ছিলেন অকুতোভয়। তিনি ছিলেন বিশেষভাবে ইংরেজ-বিদ্বেষী। ইংরেজদের সামরিক শক্তিকে তিনি মোটেও পরোয়া করতেন না। সশস্ত্র ইংরেজ সেনা ও জমিদারদের লেঠেলদের সম্মিলিত বাহিনীকে একযুদ্ধে তিনি পরাজিত করেছিলেন। এরপর ইংরেজ শক্তি এবং ব্রিটিশরা তাঁকে হত্যা ও দমন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তিতুমীর সমস্ত রকমের জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। জমিদার, ইংরেজ ও তৎকালীন মিডিয়া তাঁকে ‘ডাকাত’, ‘হিন্দু বিরোধী’ বলে প্রচার করে যাচ্ছিল। 


তিতুমীর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষককে সংগঠিত করেন। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের যথাসম্ভব সামরিক প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন তিতুমীর। তিনি তাঁর সেনাপতি গোলাম মাসুমকে নিয়ে ‘বাঁশের কেল্লা’ তৈরি করেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ করে তিনি শহিদ হন। দুঃখের বিষয়, এই স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিয়ে তেমন কোনও চর্চা হয় না। একাংশের অভিযোগ, তাঁর স্মৃতিতে কোনও কিছুর নামকরণ কিংবা তাঁর জন্ম ও মৃতু্যদিনে তেমন কোনও অনুষ্ঠান করতেও কাউকে দেখা যায় না। আসুন আজ তিতুমীরের শাহদাত দিবসে আমরা তাঁকে ও তাঁর সহযোদ্ধাদের স্মরণ করি। তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only