সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বদ্দোয়ায় ট্রাম্পের পরাজয়!



তেহরান, ৯ নভেম্বরঃ দেখতে দেখতে প্রায় ৪ বছর কেটে গেল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হতে চলল। কিন্তু ইরান থেকে হোয়াইট হাউজে ফোন এল না। ট্রাম্পের জীবনের সবথেকে ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে এই ঘটনা। ইরানের প্রেসিডেন্ট কিংবা বিদেশমন্ত্রী, নিদেনপক্ষে তেহরান প্রশাসনের কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডায়াল করবেন, আর তাঁর টেবিলে থাকা ঢাব্বা ফোনটা বেজে উঠবে, এই আশায় দীর্ঘ ৪৬ মাস কাটিয়ে দিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নাহ, ইরান থেকে একটা কল আজও এল না। 


এদিকে ট্রাম্পের বিদায়ঘণ্টাও বেজে গেল। অন্তত একটা মিসড কল এলেও ট্রাম্পের মান রক্ষে হত। তাও হল না। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা বিদেশমন্ত্রীর থেকে ফোনকল পাবার আশায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে অনেক কাকুতি-মিনতি করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু শিনজো অ্যাবে কিংবা এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কারও কথায় চিঁড়ে ভেজেনি। কারও মধ্যস্থতায় রুহানি-জারিফের মন গলেনি। ইরান বরাবর বলে এসেছে, তারা কোনও অন্যায় করেনি। তাই কারও কাছে মাথানত করা হবে না। কিন্তু একটিবার ফোন করলে, কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত? 


শনিবার ট্রাম্পের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তেহরান প্রশাসন বলেছে, ইরানকে নতজানু করার যে আকাঙ্খা ট্রাম্প পোষণ করতেন, তা আর পূর্ণ হল না। অদম্য বাসনা ও মনোবেদনা বুকে চেপেই বিদায় নিতে হচ্ছে তাঁকে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরী বলেছেন, ট্রাম্পের মূলনীতিই ছিল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন। ইরানের ওপর অমানবিকভাবে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর মাশুল দিতে হল ট্রাম্পকে। তিনি এও বলেন, ট্রাম্পের পতনের অন্যতম কারণ হল ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বদ্দোয়া।


লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়দিনেজাদ বলেছেন, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো ছাড়া ৪ বছরে আর কিছু করেননি ট্রাম্প। ইতিমধ্যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনাবসান হল। কিন্তু সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও ইরানকে আত্মসমর্পণ করাতে পারলেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only