শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

শিক্ষকদের বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটি



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ অধিকাংশ আন এডেড মাদ্রাসাকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এবার সেই মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন কাঠামো তৈরি করার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানাতে আলোচনায় বসছে আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটি। আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির রাজ্য সম্পাদক ওহাব মোল্লা বলেন, ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের কয়েকহাজার মাদ্রাসাকে ধাপে ধাপে অনুমোদন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।    


এরপর কয়েক হাজার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আবেদনও করে। তার মধ্যে ২৩৪টি মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়া হয়। আরও মাদ্রাসা পরিদর্শন হয়েছে। সেগুলি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। ২০১৩ সালে ২৩৪ টি মাদ্রাসার অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার।  এর মধ্যে সিনিয়ার মাদ্রাসা রয়েছে ৭৫টি, এতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। জুনিয়ার  হাই মাদ্রাসা রয়েছে ১৪৯,  এখানে পঞ্চশ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। হাই মাদ্রাসা রয়েছে ১০ টি, এতে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।  সব মিলিয়ে শিক্ষক সংখ্যা আড়াই হাজারের মতো। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪০ হাজার।  এই সব শিক্ষকদের প্রতি সরকার সহৃদয় না হলে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে দাবি আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির।


 আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকরা পরিকাঠামো উন্নয়ন ও একাধিক দাবিতে কলকাতার তালতলায় প্রায় তিন মাস ধরে অনশন আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতিমতো সেই আন্দোলন উঠে যায়। শিক্ষকদের দাবি ধাপে ধাপে মানা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষক সংগঠন।  সম্প্রতি রাজ্য সরকার ১৫৩টি মাদ্রাসাকে পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ২০১৫ সালেও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এসপিকিউএমই’-থেকে প্রতিটি মাদ্রাসাকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।


আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব মোল্লা বলেন, মাদ্রাসাগুলিকে অনুদানের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। এবার সব মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতনের ব্যবস্থার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে একাধিকবার। পুনরায় সেই দাবি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে চলতি মাসেই।  আন এডেড মাদ্রাসার এক শিক্ষককের দাবি, বেতন বৃদ্ধি দাবি দীর্ঘদিনের। 


পুরোপুরি বিনা অর্থে পড়‍ুয়াদের পড়াতে হচ্ছে। তাই রাজ্য সরকার মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করা খ‍ুবই জরুরি। তাছাড়া প্রত্যন্ত পিছিয়েপড়া এলাকায় এই মাদ্রাসাগুলি পড়‍ুয়াদের মধ্যে শিক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। তাদের প্রশ্ন, আরও বেশি মাদ্রাসার অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি এই মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন চালু না করা হলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিবার পরিজনদের চলবে কী করে।


শিক্ষক শিক্ষিকা ও আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির সম্পাদক আবদুল ওহাব মোল্লা ফিরহাদ হাকিমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর উদ্যোগেই আন এডেড মাদ্রাসাগুলি বরাদ্দ পেয়েছে। আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। আশা করি আগামীতে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোও তৈরি হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only