মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

কোথায় দাঁড়িয়ে আপনার ভ্যাকসিন?



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিক সংস্থার করোনা প্রতিষেধক টিকার ব্যবহারিক সাফল্যের কথা শোনা যাচ্ছে তাতে উৎসাহিত হচ্ছেন মানুষ। কারণ গত প্রায় এক বছর ধরে গোটা বিশ্ব করোনা নামক মহামারির সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে নিরস্ত্রভাবে। বিশ্বে করোনার প্রকোপে মারা গিয়েছেন বহু মানুষ। ভারতও বাদ নেই। গোটা এক বছর ধরে এই মহামারিকে পরাস্ত করতে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। বছর শেষের ম‍ুখে শোনা যাচ্ছে আশারবাণী। বিভিন্ন ওষুধ সংস্থা দাবি করছে তাদের টিকার কার্যকারিতা বেশি। সব ওষুধ নির্মাতা যারা টিকা তৈরি করছে, তাদের দাবি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উপর নির্ভরশীল তাদের টিকার কার্যকারিতা।


এই পরিস্থিতিতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির দ্বারা নির্মিত টিকার সাফল্য ৯০ শতাংশ বলে দাবি করছে টিকা নির্মাতা অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তাদের আরও দাবি যে, ৯০ শতাংশ সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ইতিবাচর ফলাফল। অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতে, তাদের টিকা করোনারোধে ৯০ শতাংশ সফল এবং তাও কোনও গুরুতর পার্শ্বক্রিয়া ছাড়াই। তাদের দাবি, হাফ ডোজ এই টিকা দেওয়ার একমাস পর ফুল ডোজ দিতে হবে। এভাবেই তারা টিকার ট্রায়াল বা প্রয়োগ চালিয়েছে ব্রিটেন এবং ব্রাজিলে এবং সাফল্য পেয়েছে। এই তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের শেষ পর্বের ট্রায়ালের পর। অন্যত্র এই টিকার এক মাস অন্তর ফুল ডোজ দেওয়ার পর সাফল্য পাওয়া গিয়েছে ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে যদি অক্সফোর্ড বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিষ্কৃত টিকার সাফল্য ৬২ শতাংশ হয়, তাহলে চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে এই সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ। বৈজ্ঞানিক মহলে টিকার দু’রকম সাফল্যের হারের গড়ে দেূা যাচ্ছে সাফল্যের হার ৭০ শতাংশ। মেডিক্যাল দুনিয়ায় টিকার সাফল্যের এই হার গুরুত্বপূর্ণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই টিকার কোনও গুরুতর পার্শ্বক্রিয়া বা সাইড এফেক্ট নেই।


টিকার প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার চিফ এক্সিকিউটিভ পাস্কাল সোরিওট জানিয়েছেন, তাদের টিকার কার্যকারিতা এবং পার্শ্বক্রিয়া না থাকার ফলে তাদের বিশ্বাস যে এটি করোনা প্রতিষেধক হিসেবে অভূতপূর্ব সাফল্য পাবে। ব্রিটিশ টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থার এই দাবি সঠিক হলে করোনা নামক এক ভয়ংকর মহামারির হাত থেকে পরিত্রাণের আশা দেখতে পারবে মানব সমাজ। এই মহামারি ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বে লাখ লাখ লোকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। পাশাপাশি, বিধ্বস্ত করেছে বিশ্বের অর্থনীতি।


অক্সফোর্ড টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে ১৩১টি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করে। ব্রিটিশ ওষুধ সংস্থার তথ্য পাওয়া গিয়েছে মার্কিন ওষুধ সংস্থার টিকা আবিষ্কারের তথ্য আসার পর। সেখানে তারাও তাদের টিকার ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দাবি করছে। গত ১৬ নভেম্বর মার্কিন সংস্থা মর্ডারনা ইনকর্পোরেট তথ্য দিয়ে তাদের টিকার ৯৪.৫ শতাংশ কার্যকারিতা দাবি করেছিল, তার এক সপ্তাহ আগে ফাইজার ইনকর্পোরেট এবং জার্মানির সংস্থা বায়ো এনটেক দাবি করেছিল, তাদের আবিষ্কৃত টিকার ৯০ শতাংশ সাফল্য। 


পরে সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে দেখানো হয় যে, এই সাফল্য ৯৫ শতাংশ। রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ভ্যাক্সিন সম্পর্কেও সাফল্যের একইরকম দাবি করা হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর তথ্য দিয়ে জানানো হয় যে তাদের উক্ত টিকা ২০টি সংক্রমণের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তাতে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে ৯০ শতাংশের বেশি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সম্পর্কে এও বলা হয়েছে যে, এটি বয়স্কদের জন্যও সমান কার্যকারী। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only