সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

অর্ণবের মতো দ্রুত বিচারের সুবিধা কাশ্মীরিদের নয় কেন?



শ্রীনগর, ১৬ নভেম্বরঃ জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা ওমর খালিদ বন্দি আছেন কোনও বিচার ছাড়াই। একই পরিণতি হয়েছে সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানের। অথচ গ্রেফতারের কয়েকদিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী। কাশ্মীরিরা এ ধরনের কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না কেন, প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআইএম নেতা ইউসুফ তারিগামি। 


শ্রীনগরে একটি বিবৃতিতে  তারিগামি জানান, যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে অর্ণব গোস্বামীর জামিনের শুনানি হল তা খুবই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না উপত্যকার মানুষ। কাশ্মীরে এরকম শত শত হেবিয়াস কর্পাস আবেদন ঝুলে রয়েছে গত বছরের আগস্ট থেকে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানান, জম্মু-কাশ্মীরে সাংবিধানিক কর্তব্যের অনুশীলনে যেভাবে বাধা পড়ছে, তাকে রক্ষা করতে হলে এবং ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে সুপ্রিম কোর্টকে এগিয়ে আসতে হবে। 


সুপ্রিম কোর্টের যে বেঞ্চ জামিন দিয়েছে গোস্বামীকে, তারা জানিয়েছে, যদি রাষ্ট্র কোনও ব্যক্তিকে নিশানা করে, তারা অবশ্যই মনে রাখে যেন তাকে রক্ষা করার জন্য আসীন রয়েছে শীর্ষ আদালত। এ কথা উল্লেখ করে তারিগামি বলেন, আমরা আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্ট কাশ্মীরের শত শত মানুষকে ওইভাবেই উদ্ধারে এগিয়ে আসবে, যারা বিনা বিচারে জেলে রয়েছেন গত বছরের আগস্ট থেকে। এটা খুবই মর্মান্তিক, যখন আদালত কোনও কাশ্মীরি বন্দিকে জামিন দেয়, পুলিশ তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক করে রাখে অন্য একটি মামলায়। যে ব্যক্তি জেলে রয়েছেন তিনি কীভাবে অপরাধ করতে পারেন। 


আর কেনই বা তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়? তিনি যদি জেলে আসার আগেই ওই অপরাধটি করে থাকেন তাহলে পুলিশ কেন আগে এর ভিত্তিতে কোনও মামলা আদালতে করেনি, প্রশ্ন তোলেন তারিগামি। কাশ্মীরে যেভাবে একের পর এক গ্রেফতার এবং যুবকদের উপর আক্রমণ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তিনি। এভাবে ভিন্নমতকে কণ্ঠরুদ্ধ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। 


কাশ্মীরে জনসুরক্ষা আইনেরও অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে তার মত। কোনওরকম এফআইআর ছাড়াই সাধারণ মানুষকে থানায় ডেকে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। ইউএপিএ আইনের অধীনে গ্রেফতার এখন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আইনটিরও ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। শত শত যুবকের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে এই মামলা। যুবকরা এই আইনের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে। গত বছরের আগস্টের পর থেকেই এই ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বেশি করে হচ্ছে বলে তিনি জানান। অর্ণব গোস্বামীর মামলায় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় জোর দিয়েছেন। সেটা যদি অর্ণব গোস্বামীর ক্ষেত্রে খাটে তাহলে কাশ্মীরের এই শত শত মামলাগুলোতে কেন খাটবে না, প্রশ্ন তারিগামির।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only