শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

স্কুল খ‍ুললেও তারা কি আর ফিরবে! উত্তরবঙ্গে বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা



রুবাইয়া জুঁই,জলপাইগুড়ি­ 

আচমকাই একটা মহামারি এসে সবকিছু ওলোট-পালট করে দিয়েছে। আর নিমেষেই পালটে গিয়েছে জীবনের চেনা ছন্দ। লকডাউনে কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ। শুধু কি কাজ! প্রাণও গেছে বহু প্রিয়জনের। আর এসবের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি উত্তরবঙ্গ। লকডাউন তথা করোনায় মানুষের হাতে টাকা নেই। যেসব শিশু-কিশোররা এতদিন স্কুলম‍ুখো ছিল, তারাও অভাবের তাড়নায় ছোট্ট ছোট্ট কচি হাতেই কাঁধে তুলে নিয়েছে সংসারের বোঝা। কেউ ঢেঁকি শাক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে, কারও হাতে সামান্য কিছু বকফুল। চিত্রটা এখন প্রায় সবার দেখা। উত্তরের বিভিন্ন হাট বা বাজারগুলোতে গেলেই দেখা মিলবে এদের। একগাল হেসে এগিয়ে যারা বলে, দোকানের থেকে অনেক সস্তা, নেবেন নাকি? সত্যিই তাই, দোকানের থেকে অনেক সস্তাতেই এরা বিক্রি করে। কারণ যেভাবেই হোক বিক্রি করতেই হবে।

 

লকডাউনে স্কুল বহুদিন বন্ধ। ফলে নাগরাকাটায় শিশু-কিশোরদের অনেকেই পড়াশোনা বন্ধ করে কাজে নেমেছে। কেউবা গাড়ির গ্যারেজে কাজ করছে সামান্য পয়সায়, আবার কেউ মালিকের লটারির টিকিট বিক্রি করছে দশ বিশ টাকার বিনিময়ে। আবার কেউ কেউ কাগজ কুড়ায় দু’টো পয়সা রোজগারের আশায়। শেষ কবে ওই নরম হাতগুলো বই ছুঁয়ে দেখেছে মনে নেই কারও। বাড়িতে রাখা বইগুলো ঠিকঠাক আছে কি না, তাও দেখেনি এই কয়েক মাসে। 


শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম, অষ্টম এবং দশম শ্রেণিতে প্রত্যেক বছর স্কুলছুট হত বহু ছাত্রছাত্রী। সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতেই রাজ্যসরকারের উদ্যোগে স্কুলে মিড-ডে মিল শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি ঘুরে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টায় নামেন। তাতে স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটা কমতেও শুরু করে। তবে বিগত কয়েকমাসে সেই ছবিটা পালটে যায় উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। 


তবে শুধু কি উত্তরবঙ্গ নাকি গোটা দেশেই? প্রশ্নটা না হয় তোলা রইল সময়ের হাতে। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটের কাছে মোবাইলের কয়েকটি সস্তার হেডফোন নিয়ে ফুটপাথে বসা এক বছর এগারোর কিশোর নন্দলাল জানায়, সংসারে অভাব, বাড়িতে অসুস্থ বাবা, তাই আর উপায় না পেয়েই ফুটপাথে হেডফোন বিক্রি। জানা যায়, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে সে।তবে হয়তো বা আর স্কুলে যাওয়া হবে না এটাও ম‍ুখ নিচু করে জানায়। 


এই বিষয়ে শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল বন্ধ রয়েছে, অনলাইনে ক্লাসও হচ্ছে। তবে বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে অনলাইন পরিষেবা নেই। তাছাড়া প্রত্যান্ত গ্রাম এলাকার স্কুলের পড়‍ুয়াদের পরিবারে অর্থ সংকটও দেখা দিচ্ছে। তাই শিশুরা বাধ্য হয়ে তাদের পরিবারে অর্থ জোগাতে কাজ করছে। এতে তাদের স্কুলের প্রতি আগ্রহ কমতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। এ দিন তিনি আরও জানান, কোভিড পরিস্থিতিতে স্কুলছুট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই। স্কুল ছুট ঠেকাতে কমিশনের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় কর্মসূচিও চালু রয়েছে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only