রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

বেকারি শিল্পের সমস্যাকে কেন্দ্রীয় সরকার অবহেলা করছেঃ প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ শনিবার ছিল প্রখ্যাত বেকারি ‘অ্যাঙ্কর’ এবং ‘ ব্লু- স্টার’ বেকারির মালিক শামসুল আলম সাহেব-এর মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনুষ্ঠান হয় হাওড়ার নিবড়ার কাছে অ্যাঙ্কর বেকারির কারূানায়। একইসঙ্গে বেঙ্গল বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের একটি সভাও এূানে অনুষ্ঠিত হয়। উঠে আসে বেকারি শিল্পের নানা সমস্যার কথাও।কলকাতা এবং কাছাকাছি জেলা থেকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ছোটবড় বেকারি মালিকরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। 


মরহুম শামসুল আলম সাহেবের স্মরণসভার পাশাপাশি কোভিড-১৯’এ ছোটবড় বেকারিগুলি যেসব সমস্যায় ভুগছে স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়েও আলোচনা হয়। এই সভা পরিচালনা করেন বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব আরিফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রাক্তন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ হানিফ প্রমুখ। প্রথমেই বেকারির মালিক ও উপকরণ সরবরাহকারী কয়েকজন মরহুম শামসুল আলমের স্মৃতিচারণা করেন। জনাব আরিফুল ইসলাম শামসুল আলম সাহেব সম্পর্কে বলেন তিনি সব সময় বেকারি পণ্যের গুণগত মান ও স্বাদের উপর জোর দিতেন এবং তাঁর উদ্ভাবনকৃত পণ্যগুলি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আরিফুল সাহেব বলেন বর্তমানে বেকারি শিল্প করোনা আবহে প্রচুর সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। লকডাউনে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে যে বাধা এসেছিল তা অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসেবে আমি নবান্নের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছি। উপকরণ জোগাড়ের সমস্যাও মেটানো গেছে। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক দিক থেকে বেকারিগুলি সমস্যায় পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বড়বড় শিল্পগুলিকে নানাভাবে সাহায্য করছে। তাদের ঋণ মেটানোর সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। সুদের হার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুদানের টাকাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বেকারির মতো ক্ষুদ্র শিল্পে ব্যঙ্কে ঋণে সুদের হার শিল্পতিদের চেয়ে দ্বিগুণ। জিএসটি-ও মুকুব করা হয়নি। আরিফুল আশ্বাস দেন আপনাদের বেকার্স অ্যাসোসিয়েশন সব সময় বেকারি শিল্প ও মালিকদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাবে। তিনি পণ্যের গুণগত মান বজায় রেূে সঠিক দামে গ্রাহকদের কাছে পাউরুটি ও অন্য পণ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।


 প্রধান অতিথি আহমদ হাসান ইমরান বলেন যে পরলোকগত শামসুল আলম সাহেব একটি কীর্তি রেখে গেছেন। তাঁর মতো গুণী ব্যবসায়ীর জীবন থেকে সকলেরই শেখার রয়েছে। ইমরান তাঁর রুহ-এর মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেন। ইমরান আরও বলেন পুত্র সালেহ আহমেদ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বেকারি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এটাও অভিনন্দনযোগ্য। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত করোনা আবহে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রতি আরও গুরুত্ব আরোপ করা। কারণ ক্ষুদ্র শিল্পই কোটি কোটি মানুষকে রোজগার প্রদান করে। মনে রাখা প্রয়োজন সব সময়ই বেকারি শিল্পকে স্বাদ ও মানের উপর জোর দিতে হবে। বেকারি কারখানাগুলো প্রয়োজনমতো আধুনিকীকরণ করতে হবে নইলে ‘ক্যাথলিন’ বা ‘মিও’র মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে ধীরে ধীরে বাজার ছেড়ে দিতে হবে। এটা যেন না হয় তার দিকে সকলেরই নজর দেওয়া প্রয়োজন। ইমরান আরও বলেন যে রাজ্য সরকার সব সময় বেকারি শিল্পের পাশে থাকবে। আর কেন্দ্রীয় সরকারকেও অবশ্যই ক্ষুদ্র শিল্পের সমস্যা সমাধানে নজর দিতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only