সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সমাজসেবায় অনলস যোদ্ধা বর্ধমানের 'বাবু- দা'




সফিকুল ইসলাম(দুলাল) ,বর্ধমানঃ­ গত কয়েক বছর ধরে বর্ধমান সদর-সহ গোটা জেলাজুড়ে অসহায় দরিদ্র মানুষের ভরসা ৪৭ বছরের মুহাম্মদ আশরাফউদ্দিন। সকলের কাছে তিনি ‘বাবুদা’ নামে পরিচিত। কোনও সাহায্যপ্রার্থী তার কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেননি কখনও। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, রক্ত সংকটের মোকাবিলায় প্রতিবছর রক্তদান শিবিরের আয়োজক আশরাফউদ্দিন। সেখানে বহু মানুষ রক্তদান করেন। এছাড়া বর্ধমান সদরের রসিকপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বর্ধমান ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।  ‘বর্ধমান ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ দরিদ্র মানুষকে বস্ত্র বিতরণ, ক্যানসার রোগীদের সহায়তা করার মতো কাজ ধারাবাহিকভাবে করে আসছে। দরিদ্র রোগীদের জটিল রোগের চিকিৎসার যাবতীয় বন্দোবস্তও করে চলেছেন ধারাবাহিকভাবেই। 

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ধমান শহরে এইমসের চিকিৎসকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এসে এলাকার হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করেন আশরাফউদ্দিন। 

আশরাফউদ্দিন জানালেন, দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে লেখাপড়া করার সময় কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। ওঁর মাধ্যমেই কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ক্রমে প্রণববাবু আশরাফউদ্দিনের স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন। এরপর অসমের এক তৃণমূল সাংসদের সচিব পদে কাজের সুযোগ পান তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র,প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। 

আশরাফউদ্দিন জানালেন, ‘কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকাকালীন এইমসের চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবায় গত ২৫ বছর ধরে লাগাতার কাজ করছেন।’ প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতিতেও লাগাতার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে চলেছেন আশরাফউদ্দিন। ব্যক্তিগত উপার্জনের একটা বড় অংশ জনসেবাতেও খরচ করেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও তাঁর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আর আশরাফউদ্দিন বললেন, ‘সমাজসেবার কাজে তাঁর অনুপ্রেরণা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only