রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

জয়ী বাইডেন, বিদায় ট্রাম্প

 


পুবের কলম আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  চার সাল বেমিসাল। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। মিলে গেল দেওয়াল লিখন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হম্বিতম্বি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে শেষ হাসি হাসলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ২৯০টা ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউজে ঢোকার চাবিকাঠি পকেটস্থ করলেন তিনি। তাঁকে আটকাতে ছল-বল-কৌশল সবরকম পন্থা অবলম্বন করেছিলেন ট্রাম্পের শিবির। কিন্তু সব চক্রব্যূহ ভেদ করে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন বাইডেনই। ৭৭ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেনের পক্ষে অনেক আগেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যতক্ষণ না সরকারিভাবে ঘোষণা হয় ততক্ষণ কারও পক্ষে কিছু বলা সম্ভবপর ছিল না। তাই বিডেনের জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা টুকুই যা বাকি ছিল। ক্ষমতাসীন ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন হারার আগে হারব না। হারলেও অত সহজে হার মানবেন না। এও ভেবেছিলেন আদালতে একের পর এক মামলা ঠুকে গণনা ও ফলাফল প্রক্রিয়া নিয়ে যতখানি সম্ভব টালবাহানা করা হবে। সব মিলিয়ে বাইডেনের জয়যাত্রা রুখতে দীর্ঘসূত্রিতার ছক কষেছিলেন ট্রাম্প-শিবির। কিন্তু রিপাবলিকান শিবিরের সব চাল বানচাল করে দিলেন বারাক ওবামা আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পোড়খেকো রাজনীতিবিদ বাইডেন।
এদিকে বাইডেনের জয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন সমীকরণ ও রসায়ন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বিদায় এবং বাইডেনের জয়ের প্রভাব সারা বিশ্বেই কমবেশি পড়বে। কারণ, ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে বাইডেন যেসব কথাবার্তা বলেছেন তাতে এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্পের তুলনায় তাঁর সরকারের বিদেশনীতি আমূল না হলেও বেশ খানিকটা বদলে যাবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক বেশকিছুটা শুধরাবে। এর অন্যতম কারণ হল ২০১৫ সালে ওবামার আমলেই ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। বাইডেন ছিলেন ওবামা সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাই তিনি একান্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন,আমি জিতলে ইরান-চুক্তিতে ফেরার ব্যাপারে আমেরিকা পুনর্বিবেচনা করবে। উল্লেখ্য যে ৮ মে ২০১৮ আচমকা ইরান-চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আবার কারও কারও মতে বিডেন জিতলেও মুসলিম বিশ্বের বরাত ফিরবে না। কারণ, আমেরিকায় নেতা বদলালেও তাদের নীতি বদলায় না। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প কিংবা বাইডেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। সবথেকে আশঙ্কার বিষয় হল বাইডেনের তুরস্ক নীতি। মুসলিম বিশ্বের অগ্রণী নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সম্পর্কে বাইডেনের চিন্তা-ভাবনা অন্যরকম। এরদোগান তিনি বলেছেন সবথেকে বিপজ্জনক প্রেসিডেন্ট। তাই তেমন পরিস্থিতি দেখা দিলে তুরস্কে ‘রিজিম চেঞ্জ’ করার পক্ষে সওয়াল করেন বাইডেন। তবে ভারত ইস্যুতেও বিরাট পরিবর্তন আসবে। কারণ, জম্মু-কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং বিতর্কিত সিএএ আইন নিয়ে বিপরীত মত পোষণ করেছেন বাইডেন। তাই তাঁর সরকারের সঙ্গে এসব স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতের কূটনৈতিক টানাপড়েন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার নরেন্দ্র মোদি যেভাবে হাউস্টনে গিয়ে ‘আগলি বার ট্রাম্প সরকার’ বলে স্লোগান তুলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সেই পর্বও অত সহজে ভুলতে পরবেন না বাইডেন। তবে ভারতের ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রীতি থেকে সরে আসার একটা বড় সুযোগ ছিল যখন বাইডেনের রানিংমেট হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা হয়। শেষ খবরে জানা গিয়েছে পপুলার ভোটে ২৩ প্রদেশে ট্রাম্প এবং ২২ প্রদেশে জিতেছেন বাইডেন।
আবার ইলেক্টোরাল ভোটের নিরিখে ট্রাম্প ২১৪-এর গেরোয় আটকে থাকলেও বিডেন ২৯০ স্পর্শ করেছেন। তবে বাইডেন শনিবার বলেন তাঁর বিশ্বাস তিনি ৩০০টা ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন। উল্লেখ্য এবার পপুলার ভোটও রেকর্ড সংখ্যক পড়েছে ৬৬.৯ শতাংশ। যা বিগত ১২০ বছরেও হয়নি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only