বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

বিহারের বৈশালীতে মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা, নির্বাচনের কারণে ঘটনায় ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রাহুল গান্ধির



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বিহারের বৈশালীতে ২০ বছরের এক মুসলিম তরুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নীতীশ কুমারের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর অভিযোগ, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এর খারাপ প্রভাব পড়ার ভয়ে ঘটনাটিকে চাপা দিয়ে রেখেছিল শাসকদল।

নিজের টু্ইটার হ্যান্ডেলে একটি হিন্দি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পোস্ট করেছেন রাহুল গান্ধি। যেখানে লেখা রয়েছে, বিধানসভা নির্বাচন চলায় বৈশালীতে ঘটে যাওয়া এই ভয়ংকর মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ১৫ দিন হাসপাতালে লড়াই করার পর মারা যান তরুণী।

প্রতিবেদনটি পোস্ট করার পাশাপাশি জেডিইউ-বিজেপিশাসিত জোট সরকারকে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধি লেখেন– কার অপরাধ সবথেকে বেশি ভয়ংকর? যে এই অমানবিক কাজ করেছেন? বা যিনি নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য এই কুশাসনকে নিজের সুশাসনের ব্যা নারের নিচে লুকিয়েছেন তিনি?

প্রসঙ্গত, বৈশালীর দেশরী থানা এলাকার রসুলপুর হাবিব গ্রামের বাসিন্দা ২০ বছরের মুসলিম তরুণী গুলনাজ থাতুনকে প্রায়ই তাঁর নিজের গ্রামের চন্দন ও সতীশ নামে দুই যুবক উত্ত্যক্ত করত। এর প্রতিবাদ করায় তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। গত ৩০ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটে। সেদিনই তরুণীর আত্মীয়রা তাঁকে হাজীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই দিনই হাসপাতালে পুলিশের সামনে তরুণী নিজের বয়ানে জানান চন্দন নামের এক যুবক ও তার বন্ধুরা এই কাজ করেছে। 

পরের দিন চিকিৎসার জন্য তরুণীকে পটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ফের তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। এই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর ডেপুটি পুলিশ সুপার হাসপাতালে গিয়ে তরুণী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ঘটনার এফআইআর দায়ের করা হয়।

১৫ দিন ধরে লড়াই কর গত ১৫ নভেম্বর মারা যান তরুণী। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তরুণীর দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা। পরে পথে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। চন্দন নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা পলাতক।

অনেকে এই ঘটনাকে লাভ জিহাদের বিপরীত আখ্যান বলছেন। ২০ বছর বয়সি ওই মুসলিম তরুণী ওই হিন্দু যুবককে বিয়ে করতে না চাওয়ায় তাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, সপ্তাহ দু’য়েক আগে গুলনাজ খাতুন নামে এক তরুণীকে সতীশ কুমার নামে এক ব্যক্তি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তিনি অস্বীকার করেন। সপ্তাহ দু’য়েক আগে সেই রোষে গুলনাজকে সতীশ,চন্দন ও তার দুই সঙ্গী মিলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। ৭৫ শতাংশ অগ্নিদ? অবস্থায় তাকে পটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রবিবার তার মৃতু্য হয়।

গুলনাজের মৃত্যুর কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানানোর পর তার পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে। মৃত ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই পরিবারের সদস্যরা পটনার রাস্তায় লাশ নিয়ে বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়া সেই প্রতিবাদের চিত্র ছড়িয়ে পড়ায় নেটিজেনরা ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।

এ ব্যাপারে গুলনাজের মা মাইমুনা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, সতীশ বলে এক যুবক তার মেয়েকে বিয়ে করতে চাপ দিচ্ছিল যেহেতু তার মেয়ে মুসলিম তাই ভিনধর্মীর সঙ্গে বিয়েতে তার জোর আপত্তি ছিল। তখন তারা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যা পাঁচটা নাগাদ গুলনাজ রাস্তার পাশের বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলতে গেলে তার গায়ে করোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে হাসপাতালে পৌঁছায় পুলিশ। রাত দশটা নাগা অগ্নিদ? তরুণীর অভিযোগ রেকর্ড করে। সেই অভিযোগ অনুসারে জানা যায় তিন ব্যক্তি সতীশ কুমার, চন্দন কুমার এবং বিনয় কুমার ওই তরুণীর কাছে এসে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করে। ওই তিনজনের মধ্যে একজন তার পকেট থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে তার গায়ে ঢেলে দেয়। এরপর দেশলাইয়ের কাঠি জ্বেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। গায়ে আগুন লাগলে ওই তরুণী চিৎকার শুরু করায় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তখন ওই তিনজন পালিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষজনই তাকে অগ্নিদ? অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাজীপুরের সম্প্রভু হাসাপাতলে ভর্তি করে। এরপর তাকে পটনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয় ।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ৩৫৪ (বি) ও ৩০৭ ৩৪ ফৌজদারি আইনে (হত্যার চেষ্টা) মামলা দায়ের করে। 

বিহার যুব কংগ্রেস নেতা মাশকুর উসমানী মৃতা তরুণীর পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। তার দাবি, নীতীশ কুমারের উচিত ন্যায় বিচার করা। উসমানী বলেছেন, ওই তরুণীর পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দরিদ্র এবং তাদের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা কঠিন হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only