রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

বিনয় তামাংকে ডেকে পাঠালেন মমতা ! পাহাড় সমীকরণ নিয়েই কী হতে চলছে সাক্ষাৎ ? পড়ুন



পুবের কলম প্রতিবেদকঃএক সময়ে দার্জিলিংয়ের ‘বেতাজ বাদশা’ বিমল গুরুংয়ের ডিগবাজির ফলে পাহাড়ের রাজনীতি নয়া মোড় নিয়েছে। বিজেপির পায়ের তলার মাটি আলগা হতে শুরু করেছে। তাই পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে জিটিএ প্রধান বিনয় তামাং ও অনীত থাপাদের সংঘাত যাতে পদ্ম শিবিরের পায়ের তলার ভিত শক্ত করতে না পারে তার জন্য উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারই ফোন করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একাংশের নেতা বিনয় তামাং ও অনীত থাপাদের কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ডাক পেয়ে আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার কলকাতায় আসছেন জিটিএ’র দুই নেতা। নবান্নে ওইদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকে বসার কথা। 

গত পঞ্চমীর দিন আচমকাই ‘ফেরার’ বিমল গুরুং যেভাবে প্রকাশ্যে এসে তৃণমূলের সঙ্গে ফের জোট গড়ার কথা জানিয়েছেন তাতে পাহাড়ে একচ্ছত্র ক্ষমতা হারানোর অশনিসংকেত দেখছেন বিনয় তামাং ও অনীত থাপারা। তাই প্রাক্তন জিটিএ প্রধান যাতে পাহাড়ে না ফিরতে পারেন তার জন্য ইতিমধ্যেই গুরুং বিরোধী মিছিলের আয়োজন করেছেন দুই নেতা। ফলে পাহাড়ে নতুন করে রাজনৈতিক অশান্তির মেঘ ঘনাচ্ছে। বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা যাতে পাহাড়ে জাঁকিয়ে বসতে না পারেন তার জন্য ছক কষছেন তাঁরা। 

আর বিমল গুরুংয়ের ‘জুজু’ দেখিয়ে পাহাড়ে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে আসরে নেমেছে বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব। গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তনের পরেই বিনয় তামাংকে কাছে টানতে সক্রিয় হয়েছেন তাঁরা। এমনকী পদ্মশিবিরের নেতাদের এমন কাজে সহযোগিতায় বঙ্গের ছোটলাট তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও আসরে নেমে পড়েছেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টÉমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরেই জনগনের অর্থের আদ্যশ্রাদ্ধ করে পাহাড়ে মাসখানেক চিত্ত ও রাজনৈতিক বিনোদনের জন্য পৌঁছেছেন তিনি। পাহাড়ে গিয়ে নতুন করে অশান্তির আগুনে ইন্ধন জোগাতে বিনয় তামাংয়ের সঙ্গে বৈঠক বসার জন্য উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। যদিও রাজ্যপালের সঙ্গে এখনও বৈঠকে বসার ব্যাপারে মনস্থির করতে পারেননি তামাং ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অনীত থাপা। 

পদ্ম শিবিরের এমন পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে পালটা আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ে এক সময়ে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা দু’টি নেতা যাতে ফের শত্র&তা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হন সেটাই চাইছেন তিনি। এ দিন ফোনে জিটিএ’র অন্যতম প্রশাসক তথা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (বিনয়) গোষ্ঠীর নেতা অনীথ থাপার সঙ্গে একপ্রস্থ কথাও বলেছেন। বিমল গুরুং পাহাড়ের রাজনীতিতে ফিরলেও জিটিএ-র দায়িত্বভার যে বিনয় তামাংয়ের হাতেই থাকবে সেই বার্তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তবে তিনি চান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে নতুন করে সংগঠিত করে সাংগঠনিক বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব বিমল গুরুংয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। পাহাড়ে যুযুধান দুই শিবিরকে একসঙ্গে মেলাতে ৩ নভেম্বর তামাং-থাপাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only