শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাউকে সামনে রেখে লড়বে না বিজেপিঃ অমিত শাহ

 

                                          

                                               ( মতুয়াদের মন জয়ে মতুয়া বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন শাহ-দিলীপদের)


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ভোট বড় বালাই। আর সেই ভোটের কথা ভেবেই মতুয়াদের মন জয়ে শুক্রবার নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে মতুয়াদের মন্দিরে সটান হাজির হয়ে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদদের চরণে মাথা ঠেকালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু মতুয়াদের মন্দিরে গিয়ে পুজোই দেননি, এলাকার মতুয়া সম্প্রদায়ের ‘কেষ্ট-বিষ্টু’ এবং বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে পাত পেড়ে মধ্যাহ্নভোজনও সেরেছেন। বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য নলেন গুঁড়ের পায়েস চেখেছেন। সেইসঙ্গে আশ্বাস দিয়েছেন বঙ্গে আগামী বিধানসভা ভোটে দল ক্ষমতায় এলে ফের নলেন গুঁড়ের পায়েস খেতে নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে পা রাখবেন। 

একুশের বিধানসভা ভোটে ‘মিশন বাংলা’ সফলের ক্ষেত্রে যে দক্ষিণবঙ্গের আদিবাসী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানেন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ। গত লোকসভা ভোটে আদিবাসী ও মতুয়াদের ভোটেই তো বঙ্গে পদ্মফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল। তাই বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার চতুরডিহি গ্রামে বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছিলেন। দেশের কেন্দ্রীয়  কাছে পেয়ে অনেক কিছু বলবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন বিভীষণ। কিন্তু তা ভাবনাতেই থেকে গিয়েছে। বিজেপি নেতারা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে পা রেখেছেন এটাই যথেষ্ট।’ নবীনবাবু অবশ্য এ দিন আর কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কোনও আর্জি জানানোর দুঃসাহস দেখাননি। 

অমিতের এই মধ্যাহ্নভোজনের রাজনীতি আদৌ বিজেপিকে কতটা রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড এনে দিতে পারবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কেন-না আদিবাসী এবং মতুয়ারা গত লোকসভা ভোট থেকেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। একদল তৃণমূল শিবিরে ভিড়েছেন আর এক অংশ বিজেপিতে। এ দিন বাগজোলা খাল সংলগ্ন যে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাজির হয়েছিলেন সেই এলাকার মতুয়ারা গত লোকসভা ভোটের আগেই গেরুয়া চোলা পড়ে নিয়েছিলেন। 

একুশের বিধানসভা ভোটের ঘুঁটি সাজাতে বঙ্গ সফরের শেষদিনে শুক্রবার সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন অমিত শাহ। এ দিন সকালে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ,মুকুল রায়,কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। পুজো দেওয়ার পরেই মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন ‘শ্রীচৈতন্য– রামকৃষ্ণের পূণ্যভূমিতে তোষণের রাজনীতি করছে তৃণমূল সরকার। তাতে বাংলার ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। বাংলার ও দেশের মঙ্গল কামনার জন্য পুজো দিয়েছি।’

দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর বাড়িতে হাজির হন অমিত শাহ। সেখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে চলে আসেন সল্টলেকের ইজেডসিসিতে। সেখানে কলকাতা ও নবদ্বীপ জোনের দলীয় নেতাদের সঙ্গে একুশের বিধানসভা ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। সূত্রের খবর ওই বৈঠকে বিজেপির চাণক্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন ‘বিধানসভা ভোটে কোনও মুখকে সামনে রেখে লড়াই চালানো হবে না। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কাউকে তুলে ধরা হবে না। কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করা হবে।’ একইসঙ্গে বুথস্তরে সংগঠন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ারও নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন ‘বাংলার উন্নয়ন ও সুরক্ষার স্বার্থে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার প্রয়োজন এটা বোঝাতে হবে। প্রতি বুথে ৪০ জনের কমিটি করতে হবে। বুথ শক্তিশালী না হলে ক্ষমতা দখল করলেও তা ধরে রাখা যাবে না।’ 

আগামী বিধানসভা ভোটে রাজ্যে যে সন্ত্রাস চালাতে দেবেন না সে বিষয়েও দলীয় নেতাদের এ দিন আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন ‘এবারের ভোটে রিগিং-সন্ত্রাস হবে না এই গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি। আপনারা শুধু জান-প্রাণ লড়িয়ে কাজ করে যান।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে লড়তে গেলে ফল হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই কাউকেই ‘মুখ’ হিসেবে সামনে রাখার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজি নয় তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন অমিত শাহ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only