শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০

পরপর মস্তিষ্কে সফল অপারেশন করায় দৃষ্টান্ত সহরারহাট নার্সিংহোম

নাজির হোসেন লস্কর

ঘটনা ১: নুরআলম পুরকাইত বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংগ্রামপুর। মোটরবাইক নিয়ে অন্য গাড়িকে পাশ দিতে গিয়ে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় চোট পান বছর ২৪-এর এই তরুণ।

ঘটনা ২: সহিদুল হালদার। মোটরবাইক চালিয়ে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা দুর্ঘটনায় চোট পান জীবনতলা আঠারোবাঁকির বছর ৫৫-র ওই ব্যক্তি।

ঘটনা ৩: মহাদেব ভুঁইঞা। বয়স ৪৫ বছর। মৈপিঠ কোস্টাল থানার জামতলা মধ্যগুড়গুড়িয়া পেটকুলচাঁদের এই সবজি বিক্রেতা পাঁচমোড়ের কাছে একটি মোটরবাইকের ধাক্কায় সাইকেল থেকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান।

সব দুর্ঘটনাতেই আহতরা মাথায় গুরুতর চোট পান। জরুরি পরিস্থিতিতে সকলের  মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হয়। দিন দশেকের মধ্যে সফল অস্ত্রোপচারগুলি সম্ভব হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় দি সহরারহাট নার্সিংহোমে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সঠিক যন্ত্রপাতি থাকলে শুধু কলকাতা বা জেলা-শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকার নার্সিংহোমেও সম্ভব হয় মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার। আর কয়েকদিনের মধ্যে মস্তিষ্কে এইসব অস্ত্রপচার করে নজর কাড়ল জেলার সবচেয়ে বেশি ১৫০ আসন বিশিষ্ট দি সহরারহাট নার্সিংহোম।

সংগ্রামপুরের নুরআলম পুরকাইতের আব্বা নুর ইসলামের পুরকাইতের কথায়, ছেলের দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে ডায়মন্ড হারবারে সিটি স্ক্যান করাই। ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানায়, কলকাতার পিজি বা অন্য কোথাও ভর্তি করাতে হবে। এদিকে ছেলে তখন অজ্ঞান অবস্থায়, বমিও করছে। কলকাতায় না গিয়ে তড়িঘড়ি সেখান থেকে দি সহরারহাট নার্সিংহোমে ভর্তি করাই। ডাক্তারবাবু বললেন, অপারেশনে ঝুঁকি আছে। নার্সিংহোমের প্রধান জাহির’দা ডাক্তারকে অনুরোধ করায় অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়। ছেলে আমার এখন আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছে। একইরকম অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সহিদুল হালদারের ভাইপো হাবিবুল্লা হালদার ও মহাদেব ভুঁইঞার ভাই পৈলান ভুঁইয়াও। দুর্ঘটনার পর সহিদুল হালদারকে নিয়ে ক্যানিং থেকে কলকাতা কোনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেনি। পরিজনদের কথা শুনে শেষে ভাইপো হাবিবুল্লা ফলতায় জাহির’দার নার্সিংহোমে চাচাকে ভরতি করায়। অন্যদিকে, মহাদেব ভুঁইঞাকে অজ্ঞান অবস্থায় ডায়মন্ড হারবারের এক নার্সিংহোম ঘুরে সহরারহাট নার্সিংহোমে ভর্তি করান।

কয়েক দিনের মধ্যেই পরপর এই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়েছে নিউরো সার্জেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী সাহা ও ডা. পি মণ্ডলের চেষ্টায়। সহযোগী ছিলেন ডা. মিজানুর রহমান। অ্যানেস্থেটিস্টের কাজে সাহায্য করেন ডা. অনির্বাণ সাহা।

এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা নার্সিংহোম ওনার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক তথা সহরারহাট নার্সিংহোমের কর্ণধার আলহাজ্ব জাহির ইসলাম বলেন, শেষ ১০-১৫ দিনের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচণ্ড আঘাত ও সঙ্কটজনক অবস্থায় আমাদের নার্সিংহোমে কয়েকজন রোগীকে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি বলেন, মস্তিষ্কের অপারেশন বেশ জটিল। রোগী মৃত্যু থেকে আংশিক বা পুরো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া দৃষ্টি ক্ষীণ হওয়া, শ্রবণক্ষমতা হারানোর মতো ঝুঁকি থেকে যায়। তারপরেও ডাক্তারবাবুরা সফল অস্ত্রোপচার করেছেন। জাহির ইসলামের থেকে আরও জানা যায়, অস্ত্রোপচার করে নুরআলম পুরকাইতের মাথার কিছুটা অংশ স্ক্যাল্প বাদ দিতে হয়েছে। অন্য দুই রোগীর ২০০ মিলি ও ১২০ মিলি রক্ত বের করা হয়। তিনি আরও বলেন, বছরখানেক আগে সুমঙ্গল নামের এক রোগীর মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রপচার করা হয় এই নার্সিংহোমে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে সুবিধায় জেলার ‘এ’ গ্রেড মান্যতাপ্রাপ্ত দি সহরারহাট নার্সিংহোমে সম্প্রতি ডায়াগনস্টিকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারও শুরু হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only