বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

গরুপাচারকাণ্ডে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজত বিএসএফের কমাডেন্ট সতীশ কুমারের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ­গরুপাচারকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া বিএসএফ কমাডেন্ট সতীশ কুমারকে ১৪ দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে পাঠালো আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালত। মঙ্গলবার বিএসএফ কর্তাকে ওই আদালতে হাজির করে সিবিআই। সেখানেই শুনানির শেষে এই রায় দিয়েছে আদালত। এদিন আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী ধৃত অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনেন। সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক গরুপাচার চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন সতীশ কুমার। তাঁর শ্বশুড় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। যার অ্যাকাউন্টে ১২ কোটি টাকা রয়েছে। যে টাকা আচমকাই তাঁর ব্যাঙ্কে ঢোকে। এমতাবস্তায় ২০১৬ সালে আয় ও সম্পত্তি ঘোষণা প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা রোজগারের কথা জানিয়েছিলেন। সিবিআই নিশ্চিত         যে ব্যাক্তি ২০০৬ সালে অবসর নিয়েছেন সেই ব্যাক্তির অ্যাকাউন্টে ১০ বছর পর কিভাবে ১২ কোটি টাকা জমা হল, তার ব্যাখ্যা আগে আয়কর দফতর চেয়েছিল। সিবিআই আদালতে আরও জানিয়েছে– তিনি ২ বছর মালদায় ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নে পোস্টেড ছিলেন। সেসময় অন্তত ২০ হাজার গরু আটক করেছিল বিএসএফ। সেই গরুগুলিই পরে কম দামে কিনে বাংলাদেশে চড়া দামে পাচার করা হয়েছে। এছাড়াও সিবিআইয়ের অভিযোগ এই অফিসার নিজের প্রভাব খাটিয়ে গরুপাচার মামলায় সাক্ষীদের ভয় দেখাচ্ছে। তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালাচ্ছে। তদন্তে কোনও রকম সহযোগীতা করছে না। যার জন্য মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাতে তদন্ত নিজ গতিতে এগোতে পারে। এরপরই এদিন বিচারক সতীশ কুমারকে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এদিকে সতীশ কুমারের পরিবারের সদস্যদের কয়েকজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে সিবিআই। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ইতিমধ্যেই সিবিআই চেয়ে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। উল্লেখ্য– ইতিমধ্যেই এই কেসে নাম জড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী এনামুল হকের। তাঁকেও দিল্লিতে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আদালত। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only