বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

‘বাংলায় আমিই পর্যবেক্ষক’­ মমতা

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ‘গোটা বাংলায় আমিই পর্যবেক্ষক’। একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সহবতের বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে এরমধ্যেই রয়েছে ‘বিক্ষুব্ধ’দের জন্য কড়া সুরও। এই মুহূর্তে শাসক দলের অন্দরে ছোট-বড়-মেজো নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। যদিও রাজনৈতিক দলে এ ধরনের ঘটনা কোনও নতুন বিষয় নয়। এসবকে কাটিয়েই নির্বাচনী যুদ্ধে নামতে হবে, তা ভালোভাবেই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাই দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দলনেত্রীর নির্দেশ, তিনিই ‘গোটা বাংলার পর্যবেক্ষক’। কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, সে-সবের উপর তিনি নজর রাখছেন। 

তৃণমূলে শেষবার সাংগঠনিক রদবদলে দলের জেলা পর্যবেক্ষকের পদ তুলে দিয়েছে তৃণমূল। জেলা পর্যবেক্ষকদের পদ তুলে দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে একাংশ ক্ষুব্ধ। যাদের মধ্যে সামনের সারিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সঙ্গে দলের টানাপোড়েনের মধ্যেই দলনেত্রীর এই বার্তা যথেষ্টই অর্থবহ। দুই মেদিনীপুর, মালদহ,মুর্শিদাবাদ-সহ ৬ জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু। রদবদলের পর তিনি-সহ অন্য পর্যবেক্ষকরাও আর ওই পদে নেই। তাঁর ক্ষোভের নিরসন করতে দু’দফায় আলোচনায় বসেছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। সেই আলোচনায় কোনও মীমাংসা এখনও পর্যন্ত হয়নি। আবার আগামী সপ্তাহে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, আলোচনায় সৌগত রায়কে শুভেন্দুকে নাকি পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। পাশাপাশিই তিনি জানিয়েছিলেন, কাজ করার ‘স্বাধীনতা’ চান।

এত দিন এ নিয়ে দলনেত্রী প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। কিন্তু বুধবার বাঁকুড়ায় কারও নাম না করে মমতা বলেছেন, ‘অনেকেই বলছেন এই জেলায় পর্যবেক্ষক কে, ওই জেলায় পর্যবেক্ষক কে। আমি বলছি, সারাবাংলায় আমিই পর্যবেক্ষক!’ অর্থাৎ, দলের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘এত দিন সরকারের কাজে বেশি মন দিয়ে দলকে একটু ঢিলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বার পুরো দলটাই আমি দেখব। এই বাঁকুড়ার মাটি থেকেই সেই কাজ শুরু করলাম।’

অন্যদিকে, এই বক্তব্যকে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষোভ নিরসনের প্রয়াস হিসেবেও দেখছে একাংশ। শুভেন্দু একাধিকবার তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, নেত্রীর নির্দেশ মেনে নিতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি অন্য কারও নেতৃত্ব মানবেন না। ‘অন্য কারও’ বলতে শুভেন্দু দলের তরুণ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বুঝিয়েছেন বলে তাঁর শিবিরের বক্তব্য। এ দিনের বক্তৃতায় মমতা সেই বিষয়েও বার্তা দিয়েছেন বলে দলের শীর্ষনেতারা মনে করছেন। কারও নাম না করলেও এক প্রথমসারির নেতার কথায়, ‘দলের সর্বময় নেত্রী প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে তিনিই পুরো দল দেখবেন। ফলে কারও আর কোনও ক্ষোভ বা অনুযোগ থাকার কথা নয়।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only