সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

পাঁচ দিক থেকেই দিল্লি ঘিরে ফেলার হুমকি কৃষকদের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে রীতিমতো সম্মুখ সমরের হুংকার দিলেন কৃষকরা। জানালেন পাঁচ দিক থেকে ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে রাজধানী। পাঁচটি এন্ট্রি পয়েন্ট বা প্রবেশপথই বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

বুরারিতে নয়, দিল্লির যন্তরমন্তরেই বিক্ষোভ প্রদর্শনে অনড় কৃষকরা। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  অমিত শাহর আলোচনায় বসার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে কৃষক সংগঠনগুলি সাফ জানিয়ে দিয়েছে বুরারির উন্মুক্ত জেলখানার পরিবর্তে যন্তরমন্তরেই তাঁদের বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, ‘বুরারি পার্কে আমাদের আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান করেছে কেন্দ্র। কিন্তু আমরা সেখানে কখনও যাব না। কারণ, আমরা জানতে পেরেছি বুরারি পার্ক আসলে কোনও পার্ক নয়, সেটি একটি উন্মুক্ত কারাগার।’ আন্দোলনকারী কৃষকদের সংগঠন বিকেইউ ক্রান্তিকারীর সভাপতি এস ফুলের হুঁশিয়ারি, পাঁচ দিক থেকে দিল্লিকে ঘিরে ফেলা হবে। পাঁচটি এন্ট্রি পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন ক্রান্তিকারীর সভাপতি সুরজিৎ সিং বলেন, সমগ্র কৃষি আইনটিই প্রত্যাহার করতে হবে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ও ফসলের ক্রয় মূল্যের হার নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ অর্ডিন্যান্স রদ করতে হবে। নাড়া বা খড়কুটো জ্বালানোর উপর যে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। এ দিকে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে টিকরি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। কারণে সেখানে হাজার হাজার কৃষক অবস্থান করছেন দিল্লিতে প্রবেশ করার জন্য। মনে করা হচ্ছে, আরও বেশি সংখ্যায় কৃষকরা সেখানে উপস্থিত হলে এবং আরও অনেক কৃষক নেতা উপস্থিত হলেই তাঁরা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। এ দিকে যেভাবে কৃষকরা জমায়েত করছেন সেজন্য পঞ্জাব সরকারকে দায়ী করেছেন হরিয়ানার বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর তোপ দেগেছেন, কৃষকদের এই বিপুল জমায়েতের কারণে যদি হরিয়ানায় করোনা প্রকোপ বাড়ে তারজন্য পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে দায়ী থাকতে হবে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবার দাবি করেছেন, কেন্দ্রের উচিত এখনই কৃষকদের সঙ্গে নিঃশর্তে আলোচনায় বসা। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের সঙ্গে ‘জঙ্গি’দের মতো আচরণ করছে। 

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  অমিত শাহ কৃষকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, কৃষক সংগঠনগুলি যদি ৩ ডিসেম্বরের আগে আলোচনা চায়, তাহলে তাদের আশ্বস্ত করছি তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেলে পরের দিনই সরকার আলোচনায় বসবে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার ৩ ডিসেম্বর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও এ দিন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সভাপতি যোগিন্দর সিং বলেন, দিল্লি সীমানার পরিবর্তে বুরারিতে আন্দোলন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু আমরা সেখানে যাব না। আমরা চাইছি যন্তরমন্তরে আমাদের আন্দোলন করার অনুমতি দেওয়া হোক। আর রবিবার বিকেলেই কৃষক সংগঠনগুলি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে, বুরারি পার্ক কোনও পার্ক নয়, তা আসলে উন্মুক্ত জেলখানা। ওখানে নিয়ে গিয়ে আমাদের গ্রেফতার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আমরা যন্তরমন্তরেই যাব। দিল্লিকে পাঁচ দিক থেকে ঘিরে ফেলে রাজধানীতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, আলোচনার জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে অথবা মন্ত্রীদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে এবং কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করতে হবে। 

উল্লেখ্য, এই নিয়ে কৃষক আন্দোলন চারদিন পেরিয়ে পাঁচদিনে পড়ল। যেভাবে কৃষকরা আন্দোলনে অনড় রয়েছে তাতে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে বিজেপি। যদিও রবিবারই ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফের দাবি করেছেন, কৃষি আইন কৃষকদের মর্যাদা দিয়েছে।   


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only