বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

শহরেই করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল, মানুষের স্বার্থে ট্রায়ালে অংশ নেবেন ফিরহাদ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ করোনা মোকাবিলায় সর্বতোভাবে রাজ্য সরকারের পাশে থেকেছে কলকাতা পুরনিগম। এতকিছুর পরও নাগরিক পরিষেবা চালু রেখেছে তারা। আমফান-তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যাওয়া শহরকে স্বাভাবিক করতেই সামনের সারিতে থেকেছেন পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়্যারম্যান ফিরহাদ হাকিম। করোনা নিয়ে আতঙ্কের মাঝে কো-ভ্যাকসিনের যে ‘আশার আলো’ দেখা দিয়েছে, সেই কাজে নিজেকেও যুক্ত করছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরনিগমের মুখ্য-প্রশাসক। বুধবার তিনি নিজেই এমনটা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ভারতে সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার তদারকিতে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রোনেজেকার মিলিত ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। এরই মাঝে বাংলায় পৌঁছেছে ভারত বায়োটেকের কো-ভ্যাকসিন। এক হাজার ডোজ হাতে পেয়েছে বেলেঘাটায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশন্যাল ইন্সটিটিউট অফ কলেরা অ্যান্ড এন্টারিক ডিজিজ বা ‘নাইসেড’-এ। ওই সংস্থাটি ভ্যাকসিন পাওয়া মাত্রই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার বিদায়ী মেয়র ও বর্তমান পুর-প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমকে স্বেচ্ছাসেবক হতে আহ্বান জানিয়েছে। সেই আহ্বানে সাড়াও দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। শুধু তাই নয়, ভ্যাকসিনের ট্রায়াল পর্বে অংশ নিতে পারলে নিজেকে ধন্য বলেই মনে করবেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন ফিরহাদ।

এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘রাজ্যের মানুষের জন্য এটুকু করতে পারলে নিজেকে আমি ধন্য মনে করব। শুধু টিকা নয়, যদি জীবন দিয়েও কলকাতাবাসী বা রাজ্যবাসীকে রক্ষা করতে হয়, তার জন্য আমি প্রস্তুত। আমার উপর পরীক্ষা করে যদি মানুষের সুবিধা হয়, তাহলে তো এটা আমার সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

জানা গিয়েছে, দিল্লি ও হায়দরাবাদে ইতিমধ্যেই কো-ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসে বাংলায় শুরু হচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল। শেষ হবে প্রায় ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে। দেশের প্রায় ২৫ হাজার ৮০০ জনের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। তারমধ্যে এ রাজ্যে ১০০০ জনের শরীরে প্রয়োগ করা হবে ভ্যাকসিন। দেশের প্রায় ২৫টি সংস্থাকে কো-ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য বাছাই করা হয়েছে, তারমধ্যে নাইসেডও একটি। ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদ থেকে রাজ্যে ১ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসে গিয়েছে। ভ্যাকসিনগুলি মাইনাস ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবটাই করছে নাইসেড। পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজি বা এনআইভি এবং ভারত বায়োটেক যৌথভাবে তৈরি করেছে কো-ভ্যাকসিন। এ সম্পর্কে নাইসেডের অধিকর্তা শান্তা দত্ত বলেন, তৃতীয় পর্বের পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ট্রায়াল বা পরীক্ষার শেষেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়। এখন সেটাই দেখার। আমরা অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে এগোচ্ছি।


নাইসেড সূত্রে খবর, ভ্যাকসিন হাতে পেয়েই তাঁরা পুরমন্ত্রীকে স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়াও দিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে আঠাশ দিনের ব্যবধানে দু’টি ডোজ প্রয়োগ করা হবে। কো-ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করার জন্য বহু মানুষ নাইসেডে ফোন করছেন, আগ্রহীদের শারীরিক পরীক্ষা করেই বাছাই করা হবে। তার জন্য মেনে চলতে হবে নিয়ম-কানুন। সুগার, হাইপারটেনশন, কিডনির সমস্যা থাকলে ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না। যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বা গর্ভবতী, তাঁরাও ভ্যাকসিন নিতে পারবেন না। স্বেচ্ছাসেবকরা এক বছর ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে নাইসেড।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only