বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

জ্ঞানবন্ত ইস্যুতে রাজভবন-নবান্ন তরজা,স্ট্রিপ- ধনকরের কড়া সমালোচনায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের। ফের আমলাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল। একইসঙ্গে এক আইপিএস-এর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে কি না, যদি চলে তা কি অবস্থায় রয়েছে? তা জানতে চাইলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। অন্যদিকে, রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে টু্ইট করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। তাতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের মন্তব্যকে সরাসরি খারিজ করা হয়েছে।

এ দিন এক টু্ইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে রাজ্যপাল বলেন, অফিস ও শাসনকে বেহাল করবেন না। অসাংবিধানিক হওয়া ও আইনের শাসন অগ্নিশিখার মধ্যে অবস্থান করছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) আইপিএস জ্ঞানবন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে চুপ কেন? সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এ দিন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরকেও একহাত নিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি টু্যইটকে উদ্ধৃত করে দাবি করেন, রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় অনাচারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতরের টু্ইট থেকে স্পষ্ট। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রদফতরের করা  টু্ইটে ব্যাবহার করা ‘একটা অংশ’ শধ-বন্ধের মাধ্যমে রাজ্যপালকে অপমান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আইপিএস জ্ঞানবন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের কোনও তথ্য দিচ্ছেন না। শীঘ্রই জবাব দিন, এ কথাও উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ-মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশক রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ ও রিনা মিত্রের ভূমিকা নিয়ে নীরব রয়েছেন। এটা দুর্ভাগ্য যে, কলকাতা ও রাজ্যের পুলিশ বারবার আইন ভাঙছেন। বিষয়টি সংবিধান ও আইনের শাসন থেকে অনেক দূরে। 

রাজ্যপালের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে বাংলার কৃষকরা কেন্দ্রের ৮,৪০০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রত্যেক চাষি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ হাজার টাকা করে পেতেন, কিন্তু তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।

এ দিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, আইপিএস জ্ঞানবন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত ‘পেন্ডিং’ নেই। একটা অংশ থেকে টু্ইটে বারবার আমলাদের ভূমিকা, দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বচ্ছতা ও সম্ভাবনাময়তার সঙ্গে শাসনব্যবস্থা পরিচালনায় বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, রাজ্যপালের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাজ্যপাল নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। উনি বিজেপির অফিস পরিচালনা করছেন। পদের মর্যাদাহানী করছেন রাজ্যপাল। তিনি এমন কিছু করছেন, এতোই টুইট করছেন যে, মানুষই বলছে আজকে কিছুই টু্ইট করেনি রাজ্যপাল!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only