সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

৯ বছরে ৯টি হস্টেল তৈরি করে উচ্চশিক্ষায় পড়ূয়াদের পথ দেখাচ্ছে ওয়াকফ বোর্ড

পার্ক সার্কাসে একে ফজলুল
 হক মুসলিম গার্লস হস্টেল।



আবদুল ওদুদ,কলকাতাঃ ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে বাম সরকারের আমলে সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য গোটা রাজ্যে তৈরি হয়েছিল ১০টি হস্টেল। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০২০ সাল অর্থাৎ ৯ বছরে তৈরি হয়েছে ৯টি হস্টেল। বাম জামানায় ১৬ বছরে ১০টি হস্টেল এবং তৃণমূল সরকারের আমলে ৯ বছরে ৯টি হস্টেল করে নজির গড়েছে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন বাম সরকার বর্ধমান শহরে প্রথম মুসলিম গার্লস হস্টেল তৈরি করে। এর পরে ১৯৯০ সালে কলকাতার মুসলিম গার্লস হস্টেল তৈরি হয়। পার্ক সার্কাস দিলখুশা স্ট্রিটে এই হস্টেলটি তৈরি হয়। বহরমপুর মুসলিম গার্লস হস্টেল ১৯৯১ সালে তৈরি হয়। ওই বছরই বীরভূমের শিউড়িতে আরও একটি গার্লস হস্টেল তৈরি হয়। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বাম সরকার মালদা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর শহরে ২টি হস্টেল নির্মাণ করেন। মাঝে দীর্ঘ কয়েক বছর বাম সরকার কোনও হস্টেল তৈরি করতে উদ্যোগী হয়নি। ২০০৫ সালে ৩টি হস্টেল নির্মাণ করে। বালুরঘাট মুসলিম গার্লস হস্টেল। বসিরহাট বেগম রোকেয়া মুসলিম গার্লস হস্টেল এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সৈয়দুল হক মুসলিম গার্লস হস্টেল নির্মিত হয়। যদিও ২০০৩ সালে উত্তর দিনাজপুরে ইসলামপুর মুসলিম গার্লস হস্টেল নির্মন করে। 

বহু প্রত্যাশা নিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার। এই সরকার আসার পরই সংখ্যালঘু  উন্নয়নে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তার মধ্যে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে কলকাতা এবং জেলা সদর শহরগুলিতে বেশ কয়েকটি হস্টেল তৈরি হয়। সবমিলিয়ে ৯টি হস্টেল তৈরি করে। কলকাতায় একটি মাত্র গার্লস হস্টেল ছিল। তৃণমূল সরকার আসার পরে দিলূুশা স্ট্রিটে একে ফজলুল হক মুসলিম গার্লস হস্টেল, বুআলি মুসলিম বয়েজ হস্টেল, চেতলাতে আবদুল হাকিম বয়েজ হস্টেল নির্মাণ করে। এ ছাড়াও জেলাগুলিতে হস্টেল নির্মাণ করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে বীরভূমের শিউড়িতে মুসলিম বয়েজ হস্টেল, দক্ষিণ দিনাজপুরে বালুরঘাট বয়েজ হস্টেল, পুরুলিয়াতে বেগম রোকেয়া শাূাওয়াত মুসলিম গার্লস হস্টেল। পূর্ব বর্ধমানে মানিকপীর বয়েজ হস্টেল এবং হুগলির চুঁচুড়াতে মুসলিম গার্লস হস্টেল নির্মাণ করে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড। এ ছাড়াও হুগলির আরামবাগে আরামবাগ মুসলিম গার্লস হস্টেল তৈরি হয়। বর্তমানে সেটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই হস্টেলটি উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এই হস্টেলটির উদ্বোধন করা হবে বলে জানান, ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল গণি। রবিবার তিনি জানান, সবমিলিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের ১৯টি হস্টেল রয়েছে, মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ১৮৯৪ জন। এরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জেলা সদর কিংবা কলকাতায় উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য আবাশিক হিসাবে হস্টেলে থাকেন। তবে বয়েজ হস্টেলের থেকে গার্লস হস্টেলের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। গার্লস হস্টেলের সংখ্যা ১৩টি এবং বয়েজ হস্টেল সংখ্যা ৫টি। যদিও ১টি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আবদুল গণি বলেন, সামান্য খরচে কলকাতায় পড়াশোনার সুযোগ করে দিতেই ওয়াকফ বোর্ড ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই হস্টেল নির্মাণ করেছে। এদের মাসিক খরচও খুব কম। বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য সোলার সিস্টেম করা হয়েছে। ফলে যে সামান্য চার্জ ছিল সেটিও অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে অল্প খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। 

ওয়ায়কফ বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, জেলা এবং কলকাতায় আরও বেশ কয়েকটি হস্টেল নির্মিত হবে। তার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে। নারী শিক্ষা উন্নয়নের জন্য শহর কলকাতা এবং জেলাগুলিতে আরও বেশ কিছু হস্টেল নির্মাণ করা হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only