শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০

৫ জানুয়ারির জেএনইউ হিংসা­য় নিজেই নিজেকে ক্লিনচিট দিল পুলিশ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হিংসার ঘটনা ঘটে। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। দিল্লি পুলিশের এক সত্যানুসন্ধানী কমিটি গঠনও করা হয়েছিল। সেই কমিটি পুলিশবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে ক্লিনচিট দিল। সেদিন প্রায় ১০০ জন মুখোশধারী লাঠি ও রড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে।পড়ুয়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে প্রায় ৩৬ জনকে আহত করে তারা। এই ঘটনার পর একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলা ক্রাইম ব্রাঞ্চকে হস্তান্তরিত করা হয় কিন্তু এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, ক্যাম্পাসের মধ্যে যখন তাণ্ডব চলছে তখন পুলিশ বাইরে নিষ্ক্রিয় হয়েছিল কেন। অথচ ঠিক আগের বছর ডিসেম্বরে জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়াতে পুলিশি সক্রিয়তা ও তাণ্ডব সবার নজরে পড়েছিল। জামিয়াতে পুলিশ গ্রন্থাগারে ঢুকে পাঠরত পড়ুয়াদের পিটিয়েছিল। পুলিশ জামিয়াতে প্রবেশ করেছিল ‘দাঙ্গাবাজ’দের রুখতে, এ দিকে জেএনইউ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি, এমনটাই তাদের দাবি। যাইহোক, ওই কমিটিতে ছিলেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ওয়েস্টার্ন রেঞ্জ) শালিনী সিং সহ আরও চার ইন্সপেকটর ও দুই এসিপি। পুলিশ কমিশনার অমূল্য পটনায়কের নির্দেশে গঠিত হয়েছিল এই কমিটি। তদন্তের সময় কমিটি সেই সময়ের ডিসিপি (দক্ষিণ-পূর্ব) দেবেন্দর আর্য, এসিপি রমেশ কক্কর, এসএইচও ঋতুরাজ ও ইন্সপেক্টর আনন্দ যাদবের বয়ান রেকর্ড করেছিল। এই সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন,সমস্ত পুলিশ আধিকারিক একই বয়ান দিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ২৭ জন পুলিশ সাধারণ পোশাকে ছিলেন। ছিলেন মহিলা পুলিশও। তাঁরা সকলে জেএনইউ প্রশাসনিক ব্লকে ডিউটি দিতে হাজির হয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের। তাঁরা উচ্চ আদালতের নির্দেশই পালন করছিলেন। তাঁদের কাছে হাতিয়ার বা লাঠি ছিল না। পিসিআর কল আসতে শুরু করে বেলা আড়াইটা থেকে এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে থেকে ২৩টি কল আসে পুলিশের কাছে। এমনটাই জানিয়েছেন এক আধিকারিক। রিপোর্টে কমিটি জানিয়েছে, বেলা ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত যে পিসিআর কলগুলি আসে তা মূলত পেরিয়ার হস্টেলে পড়ুয়াদের মারধর সংক্রান্ত। এক অফিসারের বক্তব্য, ডিসিপি আর্য সন্ধ্যা ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে যান কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে মূল ফটকের কাছে ফিরে আসেন। এই তদন্তে জেএনইউয়ের ভিসি এম জগদেশ কুমারের পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও দেখা হয় যেখানে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আর্য, এসিপি ও এসএইচওকে ক্যাম্পাসের গেটের কাছে পুলিশ মোতায়েন করার কথা লিখেছেন। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার আরও বেশি সংখ্যক পুলিশ চেয়ে অফিসিয়াল চিঠি দেয় দিল্লি পুলিশকে। সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তপ্ত ছিল। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমনটাই জানিয়েছে এক আধিকারিক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only