রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

বাংলার নেতাদের ওপর ভরসা নেই তাই বহিরাগতদের আনছে বিজেপি:কাকলি ঘোষ দস্তিদার

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ গত কয়েকদিন টানা বহিরাগত ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল। শনিবার আরও একবার এই বহিরাগত ইস্যুতেই বিজেপিকে বিঁধলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুক্রবার দমদমের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু অভিযোগ তুলেছিলেন, পশ্চিম ভারতীয় সংস্কৃতি বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দিতেই বাইরে থেকে নেতা এনে বাংলার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে বিজেপি। তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেছেন, ‘বাংলার নেতাদের ওপর ভরসা নেই বিজেপির। তাই বহিরাগতদের বাংলার রাজনীতিতে আনা হচ্ছে। এই বহিরাগতরা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না,শুধুমাত্র ভ্রান্ত প্রচার ও ফের নিউজের সাহায্যে বাংলার মসনদ দখল করতে চাইছে বিজেপি।’

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাঙালিরা। শিক্ষাক্ষেত্রে নোবেল প্রাপক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাহসিকতার নাম আসলে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস। আর প্রশাসনের দিক থেকে বিচার করলে নাম আসবে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতার বিরুদ্ধে লড়ার কে আছে? কেউ নেই ওদের। ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। বাইরে থেকে নেতা আনছে। এখানে যাঁরা আসছেন, বাংলার কৃষ্টি, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। বাংলার মা-বোনেদের সম্মান করতে জানে না তাঁরা। 

উল্লেখ্য, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভিন রাজ্যের ৫ জন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছে। ভোট প্রস্তুতির জন্য সাম্প্রতিককালে রাজ্যে এসেছেন দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক জেপি নাড্ডা। তারপর নভেম্বরে এসেচেন অমিত শাহ। এরপর থেকে ভিনরাজ্যের নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে উল্লেখ করছে তৃণমূল। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যে কয়েকজন বাঙালি নেতা রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে আছেন, তাঁদের উপরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আস্থা রাখতে পারছে না। সেজন্য বহিরাগত নেতা আমদানি করা হচ্ছে। বাংলার মানুষ এসব মোটেও ভালো চোখে দেখছে না। এরফল ভোটের পরই মালুম পাবে গেরুয়া শিবির। 

শুক্রবার রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুও নেতাজি সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টেনে বলেছিলেন, নানাভাবে কোণঠাসা হওয়ার পর ভারতের রাজনীতি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল সুভাষচন্দ্র বোসকে। একটা সময় তিনি আলাদা দলও গঠন করেছিলেন। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল ৫০ বছর পর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একসময় নতুন দল গঠন করেছেন। সুভাষ চন্দ্র বোসের মতো লড়াই করতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাইরের রাজ্য মূলত পশ্চিম ও উত্তর ভারত থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only