মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

বিহার ও উপনির্বাচনগুলিতে ভরাডুবির পর কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্ব ফের হয়তো বলবেন ‘সব ঠিক হ্যায়’: কপিল সিব্বাল

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ফের একবার দেড়শত বছরের প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের দুর্বলতা প্রকট হল। বিরোধীদের ‘মহাগটবন্ধন’ বা মহাজোটে কংগ্রেস সবচেয়ে দুর্বল শরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যার ফলে তেজস্বী যাদবের আরজেডি এবং বাম দলগুলির ভোটে অভূতপূর্ব সাফল্য ও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগারের চৌকাঠ পেরোতে দেয়নি। কংগ্রেসের এই ব্যর্থতাকে নিশানা করে ফের একবার দলের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বাল। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা যারা রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝেন তাঁরাই পারবেন কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করতে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিব্বাল পরিষ্কার করে দেন ‘কংগ্রেসের পক্ষে আত্মবিশ্লেষণ’-এর সময় পেরিয়ে গেছে। আমাদের এখন প্রয়োজন বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া। নেতা হিসেবে এমন ব্যক্তিত্ব সামনে আনতে হবে যাঁদের কথা মানুষ শুনবেন। চিন্তাশীল ব্যক্তিকে নেতা হিসেবে তুলে ধরতে হবে যিনি ভাবনা-চিন্তা করে কথা বলবেন। কংগ্রেসিদের বোঝার সময় এসেছে যে দল এখন ক্ষয়িষ্ণু বিহারে কংগ্রেসের ভরাডুবির পাশাপাশি দেশের একাধিক রাজ্যে বিশেষ করে গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশে উপনির্বাচনগুলিতে কংগ্রেসের হতাশাজনক নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ তোলেন কপিল। তিনি বলেন, বিশেষ করে এই দু’টি রাজ্যে কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল উদ্বেগজনক। কারণ এই দু’টি রাজ্যে কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিশালী। যেখানে কংগ্রেস বিকল্প দল হয়ে উঠতে পারে সেখানেও মানুষ আমাদের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। কপিল বলেন, তাই কংগ্রেসের আত্মসমীক্ষার দিন শেষ। আমরা এই বিপর্যয়ের উত্তর জানি। এটা স্বীকার করার জন্য কংগ্রেসিদের সাহসী হতে হবে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ‘বিপরীত মত’ জাহির করে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে যে ২৩ জন কংগ্রেসি নেতা চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন কপিল সিব্বাল। সেই চিঠির ফলে কংগ্রেসের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু হাইকম্যান্ড চিঠি প্রেরক নেতাদের ডানা ছাঁটা ছাড়া দলকে উজ্জীবিত করতে অন্য কোনও পদক্ষেপ করেননি।

কপিল এ দিন আরও বলেছেন, আমি একজন কংগ্রেসি এবং কংগ্রেসি থাকব সারা জীবন। কংগ্রেস দেশে ক্ষমতার বিকল্প কাঠামো প্রদান করার যোগ্য। শাসকদল ইতিধ্যেই প্রতিটি কাঠামো যার জন্য ভারতের পরিচিতি ছিল বিশ্বময়, ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কপিল বলেন, কংগ্রেসের আদ্যোপান্ত পরিবর্তন প্রয়োজন। যারা ভারতের রাজনৈতিক বাস্তব বোঝে এবং যারা মানুষ এবং সাংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, নেতৃত্বে তাদেরই আনতে হবে। আমাদের অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে, মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। এর জন্য আমাদের আলোচনা করতে হবে। বিহারে পরাজয়কে প্রত্যেকবারের মতো স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমি জানি না বলে মন্তব্য করেন কপিল। কারণ শীর্ষনেতৃত্ব এ বিষয়ে এখন মুখ খোলেনি। যারা শীর্ষনেতৃত্বকে ঘিরে রেখেছে তাদের থেকেই শোনা যায়। হয়তো বিহার এবং একাধিক রাজ্যে উপনির্বাচনের ফলাফল দেখে আবার এটাই বোঝানো হবে ‘সব ঠিক হ্যায়’। তারপর সময় গড়াবে নিজের গতিতে বলে মন্তব্য করেন কপিল সিব্বাল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only