শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

কাঠুয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় এবার তদন্তকারী অফিসারদের বিরুদ্ধেই এফআইআর-এর আদেশ



পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ­ কাশ্মীরের কাঠুয়ায় ২০১৮ সালে আসিফা নামে একটি ৮ বছরের মুসলিম বালিকার পৈশাচিক ও মর্মান্তিক  হত্যা এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গণধর্ষণ সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বালিকাটিকে অপহরণ করে জম্মুর একটি মন্দিরে আটক করে রাখা হয়। এই ঘটনার পেছনে ছিল সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিদ্বেষ। আসিফা ছিল বাকারওয়াল যাযাবর জাতির অন্তর্ভুক্ত। মূল অভিযুক্ত সনজি রাম ও তার সহযোগী কয়েকজন পুলিশ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট অন্য উগ্র হিন্দুবাদীদের উদ্দেশ্য ছিল ওই স্থান থেকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে মুসলিম বাকারওয়াল সম্প্রদায়কে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করা। সনজি রাম তার পুত্র বিশাল এবং অন্য সহযোগীরা বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের সমর্থক কিংবা সদস্য ছিল। এই ঘটনার সফল  তদন্ত করে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। 

এখন ওই অপরাধীদের কয়েকজন আত্মীয়-বান্ধবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধেই একটি আদালত এফআইআর জারি করার নির্দেশ দিয়েছে!

জানা যায় অর্ধমৃত বা সংজ্ঞাহীন মেয়েটিকে প্রায় অর্ধসপ্তাহ ধরে নির্মম ও রক্তাক্ত করে পাশবিক অত্যাচার করা হয়। এমনকী অপরাধীরা টেলিফোন করে মিরাট থেকেও  তাদের এক বন্ধুকে জম্মুতে মন্দিরের মধ্যে ওই অসহায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করার জন্য আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসে। পরে আসিফাকে মাথায় একটি বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। সেই সময় কাশ্মীরে ক্ষমতায় ছিল মেহবুবা মুফতির পিডিপি এবং বিজেপি জোট। 

সিটের তদন্তের ফলে এই ঘটনার কুশীলবদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। একটি আদালত সনজি রাম যিনি সরকারের একজন সাবেক বড় অফিসার ছিলেন এবং সেই সঙ্গে ছিলেন ওই মন্দিরটির তত্ত্বাবধায়ক। তাকে একটি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে পুলিশ অফিসার দীপক কাজুরিয়া পরভেশ কুমারও একই সাজা পায়। এ ছাড়া সাব ইন্সপেক্টর আনন্দ দত্ত,হেড কন্সটেবল তিলক রাজ এবং স্পেশাল পুলিশ অফিসার সুরেন্দর ভার্মাকেও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এখন জম্মু-কাশ্মীরের একটি কোর্ট স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা তদন্তকারী সংস্থার ৬ জন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিটের তদন্তেই ঘটনার রহস্য উন্মোচনসহ দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কাঠুয়া ও সাম্বা জেলার তিন ব্যক্তি শচীন শর্মা,নীরজ শর্মা এবং সুশীল শর্মা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন এই মামলায় ধৃতদের কাছ থেকে নাকি জবরদস্তি স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। কাজেই তারা দোষী। 

ম্যাজিস্ট্রেটও ওই আবেদন অনুসারে এই তদন্তকারী সিটের বিরুদ্ধে এফআইআর গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন। 

ফলে প্রশ্ন উঠেছে কাশ্মীরের ওই গরিব মুসলমান পরিবারটি সাম্প্রদায়িকতা শিকার হওয়ার পরেও বিচার কি পাবে না? ওই ৮ বছরের বালিকাটির নির্মম মৃত্যুর পেছনে তাহলে কারা? কারা তাকে অপহরণ করে মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিল? দেখা যাচ্ছে বিচারের বাণী অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের পাশে দাঁড়ায়। তাহলে ওই ছোট্ট মেয়েটির নির্মম মৃত্যু অনেকের কাছে কি অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে থাকবে? 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only