শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

ভাবমূর্তি ফেরাতে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন ম্যাক্রোঁ



বিশেষ প্রতিবেদনঃ ইসলাম বিদ্বেষী নীতি ও অবস্থান থেকে ডিগবাজি খেয়েছেন ক’দিন আগেই। এবার নিজের কলঙ্কিত ভাবমূর্তি ফেরাতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতি ও শুক্রবার তিনি মিশরীয় প্রেসিডেন্ট জেনারেল আলসিসি এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তাঁদেরকে তিনি বলেছেন ইসলাম-মুসলিম সম্পর্কে তাঁর কোনও বিদ্বেষী মনোভাব বা নীতি নেই। বরং তিনি ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শ্রদ্ধার নজরেই দেখেন। তাঁর লড়াই মূলত ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন আমাদের উচিত সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান নজরে দেখা। কারও প্রতি যেন বিদ্বেষ-বৈষম্য,অবমাননা না হয় সেদিকে সরকারকে কড়া নজর রাখতে হবে। তবে এই ইস্যুতে ফ্রান্সের সঙ্গে সবথেকে বেশি বিরোধ বাধে তুরস্কের। তাই তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে কথা না বলায় ম্যাক্রোঁর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। 
এদিকে ম্যাক্রোঁকে আব্বাস বলেছেন প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানদের  কাজ হল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ তাঁর দেশের জনগণ যেন সাম্যের অধিকার পায়। বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার নাম করে যেন কারও ভাবাবেগ বা অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়া হয়। এসব অধিকার সুনিশ্চিত করতে পারলে সেই রাষ্ট্র সফলতার দাবি করতে পারে। জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন ফরাসি মূল্যবোধ রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে উত্তেজনা প্রশমণে ভুল বোঝাবুঝির চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট জেনারেল আলসিসি ফ্রান্স সরকারের নীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ছুরি হামলার পাশাপাশি বিক্ষোভেরও নিন্দা করেছেন আলসিসি। উল্লেখ্য যে মিশরে গত শুক্রবার জুম্মার নামাযে খতিব আহম্মাদ হাম্মাম তাঁর খুতবায় ফ্রান্সে নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া ইসলাম বিদ্বেষ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন ক্রুসেড নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অবস্থানের তীব্র নিন্দা করেন। এরপরই মাঝরাতে বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় ইসলামি স্কলার হাম্মামকে। অর্থাৎ মিশরের আলসিসি সরকার তাঁর অবৈধপন্থায় দখল করা মসনদ বাঁচাতে ইসরাইল আমেরিকা ও ইউরোপকে কোনও মতেই চটাতে চান না। কারণ এইসব দেশগুলোই ২০১৩ সালে পিছন থেকে ইন্ধন জুগিয়েছিল আলসিসিকে। সেই ভরসাতেই সেনা অভু্যত্থান ঘটিয়ে মিশরের একমাত্র নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে মসনদ দখল করেন আলসিসি। তাই নিজের গদি রক্ষার্থে তিনি প্রথম থেকেই পশ্চিমাদের পদলেহন করে চলেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only