শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

কেন্দ্রকে কটাক্ষ মমতার, প্রসঙ্গ কী ? পড়ুন



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বঙ্গ সফরে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হুংকার ছেড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর হুংকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাম না করে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন ‘হুমকির রাজনীতিকে বরদাশ্ত করবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ‘ভদ্রতা দেখাচ্ছি বলে কেউ যেন ল"ণরেখার গণ্ডি না ডিঙোন। বহিরাগতদের চোখ রাঙানি সহ্য করব না। শুধু বলব ভদ্রতা বজায় রাখুন।’ একইসঙ্গে নাম না করে করোনা মহামারি আইন ভেঙে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার জন্য বিজেপি নেতাদেরও দুষেছেন তিনি। 

এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা এবং তাঁদের ‘শাগরেদ’ হয়ে রাজ্যপালও যেভাবে পুলিশ ও আমলাদের হুমকি দিচ্ছেন সেই প্রসঙ্গ তুলে সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বৈঠকে তিনি বলেন ‘ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজ্যের আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের জধ করতে তাঁদের কর্মরতা স্ত্রীদের পরিকল্পনামাফিক অনেক দূরে বদলি করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি কোনও হুমকি-চক্রান্তে ভয় না পেয়ে মাথা উঁচু করে কাজ করবেন পুলিশ আধিকারিক ও আমলারা। নিজেদের কাজের প্রতি আরও দায়িত্ববান হবেন।’

বাংলায় করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানোর জন্য রাজনৈতিক দলের একাংশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তিনি বলেন ‘সাধারণ মানুষ অতিমারি আইনকে মেনে চলেছেন। অথচ মহামারি আইন ভাঙছে একটি রাজনৈতিক দল। অনুমতি ছাড়া মিছিল করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। কেউ-কেউ ইচ্ছা করে বিসর্জনের সময়ে শোভাযাত্রা বের করেছে। তাদের জন্যই রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ |ঊর্ধ্বমুখী।’ 

আমফান ঘূর্ণিঝড় ও করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়নি বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘কেন্দ্রের তরফ থেকে আমফান কিংবা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনওরকম আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়নি। অথচ নানারকমভাবে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। কেন্দ্র রাজ্যের নিয়মে বার বার বাধার সৃষ্টি করে চলেছে। তবুও রাজ্য সুষ্ঠুভাবে করোনার মতো অতিমারি পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে।’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন ‘সরকারি এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে নির্বাচিত সরকারকে টপকে কিছু করা যায় না।’  

আলু-পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দায়ও কেন্দ্রের কাঁধে চাপিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘জোতদার-মজুতদাররা কালোবাজারি করছে। মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। আগে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আওতায় ছিল আলু-পেঁয়াজ। ফলে দামের উপরে একটা নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু এখন আর সেই নিয়ন্ত্রণ নেই।’ কেন্দ্র যাতে নয়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করে সেই অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখবেন বলেও এ দিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

পাশাপাশি দুর্গাপুজোতে যেমন বিধিনিষেধ মেনে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল কালীপুজোতেও তেমনই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এ দিন দুর্গাপুরের মেয়রকেও সরানোর জন্য রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only