শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালনে বিশেষ কমিটি রাজ্যের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ একুশের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বাঙালি আবেগকে সুড়সুড়ি দিতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে হাতিয়ার করার কৌশল নিয়েছে বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরের সেই কৌশল ভেস্তে দিতে এবার আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। একদিকে যেমন আগামী বছর নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন, তেমনই বাঙালির গর্বের মানুষের মৃত্যুরহস্য প্রকাশ না করার জন্য মোদি সরকারকে বিঁধেছেন। 

জেলা সফর থেকে ফিরে এসে বৃহস্পতিবার একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করতে গিয়ে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই সাংবাদিক সম্মেলনেই কার্যত নেতাজির মৃত্যুরহস্য নিয়ে মোদি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন ‘নেতাজির জন্মদিন আমরা জানি। কিন্তু মৃত্যুদিনটা সঠিকভাবে জানি না। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আম বাঙালিও জানতে চায়, এই মহান নেতার সঙ্গে কী হয়েছে? কেন্দ্রীয় সরকার কথা দিয়েছিল এই নিয়ে সব জানাতে পারবে, কিন্তু এখনও কিছুই জানাতে পারেনি। আমরা সব কাগজ প্রকাশ্যে এনে দিয়েছি, কেন্দ্রীয় সরকার কিন্তু সেটা করেনি। যদিও তা করবে বলেছিল। ইচ্ছে করেই নেতাজির মৃত্যুরহস্য প্রকাশ করছে না।’ নেতাজি সংক্রান্ত যে সব ফাইল রাজ্যের মহাফেজখানায় ছিল, তা সবই প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘নেতাজি সংক্রান্ত যে তথ্য পুলিশের কাছে বা সরকারি মহাফেজখানায় ছিল, তা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছি। কিন্তু তার পরেও বহু তথ্য জানা যায়নি। আশা করছি, এ বছর সব জানতে পারব।’

মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের ইতিহাস নতুন করে লেখার এক চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইতিহাসকে গৈরিকীকরণের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এ দিন নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘এখন অনেকেই নিজের ইচ্ছেমতো ইতিহাস তৈরি করাচ্ছে। যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এটা ভালভাবে নিচ্ছেন না।’

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী বছর ২৩ জানুয়ারি থেকে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। প্রতিটি ব্লক,পুরসভা,জেলা ও রাজ্যস্তরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠান উদ্যাপনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কমিটিতে রয়েছেন। কমিটিতে শঙ্খ ঘোষ,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত,যোগেন চৌধুরি,জয় গোস্বামী,সুবোধ সরকার, নেতাজি পরিবারের সুগত বসু, সুমন্ত্র বসু এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র থাকছেনও।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only