শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

নিজহাতে সংগঠন দেখবেন মমতাই



পুবের কলম প্রতিবেদক:­ রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ‘বাগি’ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফাকে গুরুত্বই দিলেন না মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিশির-পুত্রের পদত্যাগের পরেই শুক্রবার বিকালে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, বৈঠকে দলের শীর্ষনেতাদের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ঘাবড়ানোর কারণ নেই। এমনটা যে হবে, তা জানতাম। আমি নিজেই এবার জেলায় জেলায় গিয়ে নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলব।’ ওই বৈঠকে মমতা জানিয়ে দেন, শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া তিন দফতরের দায়িত্ব তিনিই আপাতত দেখভাল করবেন। 

গত কয়েক মাস ধরেই বেসুরো গাইছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা পদত্যাগী মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লাগাতার দলকে ‘ব্ল্যাকমেল’ও করে চলেছিলেন। কিন্তু সেই ব্ল্যাকমেলের কাছে মাথা নোয়াননি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন দুপুরে প্রত্যাশামতো শিশিরপুত্র মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেওয়ার পরেই কালীঘাটের বাড়িতে দলের শীর্ষনেতাদের বৈঠক ডাকেন তিনি। বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক ধরে আলোচনা। 

বৈঠকে ঠিক হয়েছে, দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিলেও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আপাতত সাংগঠনিকভাবে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না। অর্থাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না। তাতে গেরুয়া চোলা পরাটা আরও সহজ হবে নন্দীগ্রামের বিধায়কের। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের কাছেও সহানুভূতি কুড়াতে পারবেন তিনি। বরং বিজেপিতে নাম লেখানোর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানো হবে। 

পাশাপাশি এও ঠিক হয়েছে, একসময়ে যে জেলাগুলিতে শুভেন্দু দলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব সামলেছিলেন, সেই জেলাগুলিতে যাতে দলীয় কর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, তার  দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। দলনেত্রী নিজেই আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে শুভেন্দুর দায়িত্বে থাকা পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে যাবেন। সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজাবেন। রাজ্যের উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে অবিলম্বে দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। 

বৈঠকে হাজির তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই দলীয় সাংসদ ছিলেন। অনেক রাজনৈতিক পণ্ডিতরা তখন মমতার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করে বোকা বনে গিয়েছিলেন। এর চেয়েও অনেক কঠিন লড়াইয়ে বিজয়ীর হাসি হেসেছেন। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। শুভেন্দুর পদত্যাগ কিংবা দলের বেশ কিছু রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ বিধায়ক নেতার ডিগবাজিকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না দলনেত্রী। নিজেই সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদেরও না ঘাবড়াতে বলেছেন। অনেকদিন বাদে সেই লড়াকু নেত্রীর মেজাজ দেখেছি আজ। ফলে আমাদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only