মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

আসিয়ান দেশগুলির মেগা ট্রেড প্যাক্ট স্বাক্ষরিত, নেই ভারত



পুবের কলম প্রতিবেদকঃপ্রায় এক দশক ধরে আলোচনা চলার পর অবশেষে স্বাক্ষরিত হল সামগ্রিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশিদারী চুক্তি বা রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)। এর ফলে তৈরি হল এশিয়ার বিশাল বাণিজ্যিক জোট, যার মধ্যে রয়েছে ভারত ছাড়া এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সব দেশ। গতবছর নাটকীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই তদানীন্তন প্রস্তাবিত চুক্তি থেকে ভারতকে সরিয়ে আনেন। কারণ, তখন ভারত মনে করেছিল এই চুক্তির ফলে ভারতের বাণিজ্যিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু রবিবার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলি জানিয়ে দেয় যেকোনও সময় এই চুক্তিতে শামিল হতে পারে ভারত,ভারতের জন্য সবসময় দরজা খোলা আছে। তাছাড়া এই ব্লকের যাবতীয় বৈঠকে ভারত ‘অবজার্ভার’ হিসেবে অংশ নিতে পারে। আসিয়ান (এএসইএএন) বা অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার নেশন-এর ১৫টি সদস্য দেশ এই মেগা ট্রেড প্যাক্টে শামিল হয়েছে। এই দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হল জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া,অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড এবং চিন।

গত রবিবার ভারতের ইন্দোনেশিয়ার দূত সিদ্ধার্থ সূর্যদিপুরো টু্ইট করে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, এই চুক্তিতে ভারতের শামিল হওয়া একান্ত প্রয়োজন কারণ এশিয়ার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দেশ হল ভারত। তবে ঠারেঠোরে তিনি এও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এই চুক্তিতে চিনের শরিক হওয়ার জন্য ভারত শঙ্কায় ভুগছে। তবে ভারত সরকার সূত্রে জানা গেছে, আরসিইপিতে চিন থেকে পণ্য আমদানির বিশাল পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই ভারত এই চুক্তি সম্পর্কে সন্দিহান। দ্বিতীয়ত,আরসিইপি-র দেশগুলির ব্যবসায়িক সূত্রে পণ্য আদান-প্রদানে শুল্ক কবে থেকে কমানো হবে সেই ‘বেস ইয়ার’-এর উল্লেখ নেই। সরকারি সূত্রে এও জানা গেছে, ভারত সরকার ভাবছে আরসিইপি-র মাধ্যমে অন্যান্য দেশগুলির মূল্যে চিনের ব্যবসায়িক স্বার্থ বেশি সুরক্ষিত হবে। সেক্ষেত্রে এই মেগা প্যাক্টে ভারতের না যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। আরসিইপি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে থেকেই ভারত আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দেশ জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখেছে এবং সেটা বেশ মজবুত। চিনের সঙ্গে উক্ত দুই দেশের কোনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই।

নীতি আয়োগের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, আশিয়ান দেশগুলির সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ-র মাধ্যমে ভারতের বাণিজ্যিক ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলারের। বাণিজ্যিক ঘাটতি বলা হয় রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হলে। তাছাড়া আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে এফটিএ চুক্তির ফলে ভারতকে আমদানীকৃত পণ্যের উপর জাপানের ক্ষেত্রে শুল্ক ১১.৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ১১.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮.৩ শতাংশ করতে হয়েছে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও আসিয়ানের সদস্য দেশগুলি মনে করছে ভারত আরসিইপি-তে যোগদান করতে নতুন করে চিন্তাভাবনা করবে। এবং অবিলম্বে আরসিইপি-র সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু ভারত সরকারের আপাতত আরসিইপি-তে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই। বরং ভারত এই মুহূর্তে আসিয়ান দেশের এফটিএ চুক্তি নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করছে। পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক কোনও লাভ হচ্ছে কিনা। যদি ভারতের পক্ষে এই চুক্তি লাভজনক না হয়, তাহলে ভারত নিজের সরবরাহ চেন তৈরি করবে পণ্য আমদানি ও রফতানির জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only