শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

কাশ্মীরে ভোটের আগে কন্যা সহ গৃহবন্দি মেহবুবা মুফতি

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ জেলা উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। তার আগে ফের গৃহবন্দি করা পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতিকে। তাঁর সঙ্গে কন্যা ইলতিজাকেও বাড়িতে আটকে রেখেছে পুলিশ, শুক্রবার টু্ইটারে পোস্ট করে এই দাবি করেছেন মেহবুবা। কাশ্মীরে বিরোধী রাজনীতিতে তিনি এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। গত বছর ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা রদের পর তাঁকে কাশ্মীরের অন্যান্য প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের মতোই বন্দি করা হয়। সম্প্রতি তাঁর গৃহবন্দি দশা ঘুচেছে। মুক্তি পাওয়ার পর বারবার কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছেন। তার দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদদ দেয়ার। পিডিপি যুবনেতা ওয়াহিদ পাররাও ২৫ নভেম্বর গ্রেফতার হয়েছেন এনআইএ-র হাতে। ১৫ দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাকে। এর পর পরই মেহবুবাকে গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল। 

শুক্রবার একাধিক টু্ইট করে মেহেবুবা মুফতি জানান, ‘আমাকে আবার বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। গত দু’দিন ধরে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন পুলওয়ামায় ওয়াহিদ পাররার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। বিজেপির মন্ত্রী ও তাদের পা-চাঁটা পাপেটরা কাশ্মীরের সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি পাচ্ছে। নিরাপত্তার সমস্যা শুধু আমার ক্ষেত্রে!’ মেহবুবার মত, কাশ্মীরেও গুজরাত মডেলের অনুসরণ করা হচ্ছে মুসলিমদের শেষ করে দেওয়ার জন্য। ‘ওরা’ এবার গ্রেনেড ও বুলেট ব্যবহার করবে বিজেপি বিরোধীদের শেষ করে দিতে। তিনি কাশ্মীরের জনগণকে ভয়কে জয় করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতবছর উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার করার ঠিক আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লা-সহ একাধিক স্থানীয় নেতানেত্রীকে আটক করে সরকার। পরে তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবিতে তৈরি করেছেন গুপকার জোট। যা একেবারেই পছন্দ হয়নি কেন্দ্রের। এই জোট থেকে ডিডিসি নির্বাচনেও প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। 

জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ বুধবার কাশ্মীরের পিডিপির যুব শাখার সভাপতি ও দলের প্রধান মেহবুবা মুফতি কাছের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ওয়াহিদ পাররাকে গ্রেফতার করে। তিনি এই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার নবীনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ ও সন্ত্রাসি কার্যকলাপের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এনআইএ-র দাবি, ওয়াহিদ পাররা হিজবুলের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতেন। গ্রেফতার হওয়া হিজবুল কমান্ডার বাবুকেও চিনতেন বলে অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা। এরপর মেহবুবা পাররার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে এবার তাকেও বন্দি করা হল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only