বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

জলস্তর নামতেই মুর্শিদাবাদে নতুন করে গঙ্গা ভাঙন শুরু, আতঙ্কের মাঝেই বসবাস হাজার হাজার মানুষের

ছবিঃ মাসুদ আলি


মুহাম্মদ মুস্তাক আলি, জঙ্গিপুরঃ অনেকটা শাঁখের করাত। আসতে যেতে, দুটোতেই ক্ষতের চিহ্ন। বর্ষার শুরুতে শুরু হয়েছিল নদী ভাঙন। এখন বর্ষা শেষে নদীর জলস্তর কমতেই ভাঙছে নদীর পাড়। সুত্রের দাবি গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে নতুন করে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এলাকায় আতঙ্ক নেমে এসেছে জনজীবনে। সামশেরগঞ্জ ব্লকের নিমতিতা অঞ্চলের দুর্গাপুরে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৪০০ বর্গ মিটার নদীর জলে তলিয়ে গেছে। ভাঙন যে ভাবে চলছে তাতে করে আরও ২০০-২৫০ বাড়ীঘরের যে কোন সলিল সমাধি ঘটার আশক্ষা করা হচ্ছে। স্বভাবতই হাজার হাজার মানুষ চুড়ান্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে এলাকাবাসির বক্তব্য। একদিকে নদী ভাঙছে অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে র্নিলিপ্ততার সেই পুরোনো অভিযোগ আবারও উঠে আসছে ভুক্তভোগিদের কণ্ঠে। ভাঙনগ্রস্থ এলাকার মানুষের বক্তব্য, নদী ভেঙে চলেছে অথচ প্রশাসনিক কোন আধিকারিক তাদের কোন খোঁজ খবর নিতে আসেনি। এমনকি সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যে বেলা পর্যন্ত এলাকায় ঢু মারার সময়টুকু দেননি বলে দুর্গাপুরের বহু মানুষের অভিযোগ। যদিও এবিষয়ের সত্যতা যাচাই করতে সামশেরগঞ্জের বিডিও শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র মুণ্ডা এবং বিধায়ক আমিরল ইসলামকে এই প্রতিবেদক লেখাকালীন তাদের মোবাইলে একাধিকবার কলও করেন। কিন্তু উল্টো প্রান্ত থেকে কল রিসিভ না করায় তাদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অবশ্য জঙ্গিপুরের নতুন মহকুমা শাসক নিতু শুক্লা জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। 

বর্ষার শুরু হতেই এবছরও মুর্শিদাবাদে ব্যপক নদী ভাঙনের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। ফরাক্কার হুসেনপুরের মানচিত্র থেকে অনেকটাই মুছে গেছে। সামশেরগঞ্জের ধুমরিপাড়ার নদী ভাঙন রাজ্যজুড়ে রীতিমতো আলোড়ন তুলে দিয়েছিল। শিবনগর,কামালপুর,ধানঘড়ার মানুষকে তো এবার সর্বশান্ত করে ছেড়েছে গঙ্গার ভাঙন। জল বাড়তে বা কমতেই শুধু নয় শুখা মরসুমেও ভাঙনের তাণ্ডব লীলার শিকার এখন মুর্শিদাবাদের হাজার হাজার অসহায় মানুষ। দুর্গাপুরের রেনু বিবি,সানাউল্লা,আলিমা বিবি,রানু খাতুন,কুলসুম বিবিদের বক্তব্য যে, গতকাল বিকেল থেকে অল্প অল্প ভাঙন শুরু হয়। রাত বাড়তেই ভাঙনের গতি আরও বাড়ে। তাদের অভিযোগ ভাঙনে নতুন করে যখন আতঙ্কের মাঝে মানুষ পিষ্ট তখন কর্তৃপক্ষের কোন দেখা মেলেনি।  রওসানারা বিবি,কমলা খাতুনদের দাবি,করোনার শুরু হতেই পুরষদের রোজগার কার্যত বন্ধ রয়েছে। মহিলারা বিড়ি বেঁধে কোন রকমে সংসারটা টেনে চলেছেন। তাদের আশঙ্কা নদী ভাঙনে মাথা গোজার ঠাঁইটি হারিয়ে গেলে কোথায় বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে তারা আশ্রয় পাবে? স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য এখনও নদীপাড় বাঁধানোর কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু হলে হয়তো হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় হারানোর আশঙ্কা থেকে বাঁচাতে পারা যাবে। 

নদীর জল বাড়লে জলস্তর বাড়ে, জল কমলে জলস্তর কমে। নদীও ভেঙে চলেছে সমানতালে। নদীর পাড় বাঁধানোর দাবিও উঠছে সমান তালে। কিন্তু কে কখন সর্বনাশা নদী ভাঙনের হাত থেকে ভগ্ন জনজীবনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে সেই কর্তৃপক্ষের আদৌ কোন উদ্যোগ লক্ষ করা যাবে কিনা সেটি বোধ হয় সময়ই বলতে পারবে। 


এ প্রসঙ্গে জঙ্গীপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান জানান, বিষয়টি তার সংসদীয় এলাকার মধ্যে না হলেও তিনি ভাঙন মোকাবেলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় জনসম্পদ মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only