বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

আমফানের স্মৃতিকে উসকে দিয়ে তামিলনাড়ু-পুদুচেরিতে আছড়ে পড়ল নিভার



রুবাইয়া জুঁই, ২৬ নভেম্বরঃআমফানের দগদগে ক্ষত এখনও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন থেকে যায়নি। আর তার মধ্যেই এবার আছড়ে পড়ল ভয়াবহ ঝড় নিভার। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ পুদুচেরির ৩০ কিলোমিটার উত্তরে তামিলনাড়ুর মারাক্কানাম উপকূলে আছড়ে পড়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় নিভার। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। চেন্নাই আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর এস বালাচন্দ্রন বৃহস্পতিবার সকালে বলেছেন, ‘স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে ঘূর্ণিঝড় নিভার। এখন শক্তি খুইয়ে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হয়েছে। এর পর সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হবে ৬ ঘণ্টার মধ্যে। তবে চলবে ভারি বৃষ্টি।’ সেইমতো এ দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে চেন্নাই, পুদুচেরি, কাড্ডালোর সহ বিভিন্ন এলাকায়। নিভারের দাপটে বৃষ্টির তেজ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি চলছে ঝড়ও। অন্যদিকে আবহাওয়াবিদরা আগেই জানিয়েছিলেন, আমফানের মতোই পুদুচেরিতে আঘাত হানতে পারে নিভার। ঝড়ের দাপটে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে উপকূল অঞ্চলের  বসতি। প্রশাসনের তরফে তাই সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তামিলনাড়ুর বহু জেলায় বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আবেদন জানায় মুখ্যমন্ত্রীই পালানিস্বামী। রাজ্যের ৪ হাজার জায়গাকে ‘দুর্বল’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং দু’দিন আগেই ওইসব এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকেও আগে থেকে পাঠিয়ে রাখা হয়েছিল এলাকায়। দ্রুত যাতে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার নিভার আছড়ে পড়ার পর থেকেই তামিলনাড়ুর উপকূল এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়েছে বহু গাছ। বৃষ্টিতে জলমগ্ন পুদুচেরি, তামিলনাড়ুর বহু এলাকা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। নিভারের তাণ্ডবে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে দুই রাজ্যের উপকূল এলাকা। বহু বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে এখনও ঠিক ক্ষয়ক্ষতির  প্রকৃত হিসাব দেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। তবে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। একদিকে করোনার ভয় অন্যদিকে ঝড়। এই দুই মিলে কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। শুধুমাত্র পুদুচেরিতেই সকাল ১০টা পর্যন্ত ২০ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়নস্বামী বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, ‘রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। জলমগ্ন বহু এলাকা। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ। বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।’ তবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিদ্যুৎ ফেরানোর আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, বাসিন্দাদের ঘরবন্দি থাকার আবেদন জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী। তিনি বলেন, ৪০০০ স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব সম্পূর্ণ হলেই ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হবে।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only