বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

বঙ্গের বিজেপি নেতাদের উপরে ভরসা নেই শীর্ষনেতৃত্বের, একুশের ভোটের দায়িত্বে ভিনরাজ্যের নেতারা



পুবের কলম প্রতিবেদক:­ একুশের বিধানসভা ভোটে ‘মিশন বাংলা’ সফল করতে যে বাংলার বিজেপি নেতাদের উপরে আস্থা রাখছে না পদ্ম শিবিরের শীর্ষনেতারা, মঙ্গলবার দুপুরেই তা পরিষ্কার হয়ে গেল। দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়-কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের হাত থেকে কার্যত কেড়ে নিয়ে ভোট বৈতরণি পার হওয়ার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে ভিনরাজ্যের অবাঙালি নেতাদের উপরে। বিজেপির অন্দরে যারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশ্বস্তজন হিসেবেই পরিচিত। রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে মেদিনীপুর জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ত্রিপুরায় পদ্ম শিবিরের জয়ের প্রধান কারিগর সুনীল দেওদরকে। পাঁচ নেতার দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টের পরে আগামী ৩০ নভেম্বর রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ফের একবার বৈঠকের জন্য আসতে পারেন অমিত শাহ কিংবা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। 

একুশের বিধানসভা ভোটের জন্য এখন থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির শীর্ষনেতারা। সেইমতো কালক্ষেপ না করে এ দিন দলের হেস্টিংস কার্যালয়ে বঙ্গ বিজেপির পদাধিকারী সহ প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য,অরবিন্দ মেননরা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, অমিত শাহের দেখানো পথে হেঁটে বুথস্তরে সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া হবে। লোকসভা ভোটের মতোই রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে সংযোজক নিয়োগ করা হবে। সেই সংযোজকরাই দলের উঁচুতলা ও নিচুতলার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি লোকসভা ভোটের মতোই গোটা রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপানো হবে। 

বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে দিলীপ-মুকুল-রাহুলদের জানিয়ে দেওয়া হয়,হাওড়া,হুগলি ও দুই মেদিনীপুর নিয়ে গঠিত মেদিনীপুরের দায়িত্ব সামলাবেন ত্রিপুরায় বিজেপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার নেপথ্য কারিগর সুনীল দেওদার। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া,পুরুলিয়া,বীরভূম ও দুই বর্ধমান নিয়ে গঠিত রাঢ়বঙ্গের দায়িত্বে থাকবেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা বিনোদ সোনকার। কলকাতা-দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার সিংহভাগ এলাকা নিয়ে কলকাতা জোনের দায়িত্ব সামলাবেন হরিয়ানার বিজেপি নেতা দুষ্ম্যন্ত গৌতম। উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা নিয়ে গঠিত নবদ্বীপ অঞ্চলের দায়িত্ব সামলাবেন মহারাষ্ট্রের দলিত নেতা বিনোদ তাওরে এবং উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে থাকছেন হরিশ দ্বিবেদী। 

পাঁচ জোনের দায়িত্বে থাকা পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা আগামী ১৮ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত জেলায় জেলায় গিয়ে দলের পদাধিকারী,জনপ্রতিনিধি ও সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সংগঠন কোথায় দাঁড়িয়ে,কোথায় দুর্বল,কোথায় শক্তিশালী তা নিয়ে এক রিপোট তৈরি করবেন। সেই গোপন রিপোর্ট দলের শীর্ষনেতৃত্বের কাছে জমা দেবেন। সূত্রের খবর ,সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে আগামী ৩০ নভেম্বর আসতে পারেন অমিত শাহ। তিনি না আসতে পারলে আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। এ দিনের বৈঠকে অমিত মালব্য জানিয়ে দেন, আগামী বিধানসভা ভোটে যেহেতু সামাজিক মাধ্যম ও প্রচার মাধ্যম এক বড় গুরুত্ব নেবে, তাই দলের প্রচারের দায়িত্ব তিনি নিজেই দেখবেন। 

বিজেপি সূত্রে খবর, বঙ্গ বিজেপিতে যেভাবে খেয়োখেয়িতে জড়িয়ে পড়েছেন দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়রা, তাতে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ অমিত শাহ ও জে পি নাড্ডারা। তাই দলের প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্ব থেকে প্রচার-সব দায়িত্ব থেকে রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বহিরাগত নেতাদের পাঠিয়েছেন তাঁরা। অর্থাৎ দিলীপ-মুকুল-কৈলাসদের উপরে ভরসা রাখতে পারছেন না শাহ-নাড্ডারা। নিজেদের বিশ্বস্ত নেতাদের কাঁধেই বঙ্গ জয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। 

যদিও বিধানসভা ভোটের জন্য রাজ্যকে পাঁচ জোনে ভাগ করে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি বঙ্গ বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুকুল রায়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন ‘এটা নতুন কিছু নয়। উনিশের লোকসাভা ভোটেও এইভাবেই লড়াই করা হয়েছিল।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only