সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ার অভিযোগে মামলা ঠুকলেন এক স্বেচ্ছাসেবী



পুবের কলম প্রতিবেদকঃকরোনা প্রতিষেধক টিকা ‘কোভিশিল্ড’ নেওয়ার ফলে ৪০ বছর বয়স্ক এক স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই অভিযোগ করে তিনি ৫ কোটি টাকার মামলা ঠুকেছেন পুণের সিরাম ইন্সটিটিউটের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ ‘কোভিশিল্ড’ টিকা নেওয়ার ফলে তাঁর স্নায়ুতন্ত্রে নানারকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। টিকা নেওয়ার আগের জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই) অ্যাস্টাজেনেকা নামক সংস্থা এবং অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের বিরুদ্ধে তিনি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে দাবি করেছেন ১৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর উপর যে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে তা যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। সেই স্বেচ্ছাসেবীর বয়ানে আরও জানানো হয়েছে, তাঁকে টিকা দেওয়ার পর অনুরোধের ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ‘এনসেফেলোপ্যাথি’ রোগে ভুগছিলেন। পাশাপাশি, তিনি পেশিকোষের সমস্যায়ও ভুগছেন। চেন্নাইয়ের ডাক্তার এস আর রামাকৃষ্ণন যিনি উক্ত স্বেচ্ছাসেবীর চিকিৎসা করছিলেন তিনি জানিয়েছেন, তাঁর রোগী এখন মোটামুটি ‘সুস্থ’ আছেন কিন্তু তিনি এসআইআই-কে জানিয়েছেন তাঁর রোগী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং নিয়ম মেনে তাঁর চিকিৎসাও করা হয়েছে। সমস্ত চিকিৎসার খরচ হাসপাতালই বহন করেছে। ড. রামাকৃষ্ণন আরও জানিয়েছে, হাসপাতালের নীতি কমিটি একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে উক্ত স্বেচ্ছাসেবীর শারীরিক সমস্যার জন্য পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিষেধক দায়ী নয়। এ কথাটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ড্রাগ কন্ট্রোলের জেনারেল অব ইন্ডিয়া-কেও। তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য সবরকম ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গোটা বিষয় নিয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলারের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

উক্ত স্বেচ্ছাসেবীর স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ‘জনসাধারণ’-এর স্বার্থে পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার জন্য সম্মতি জানিয়েছিলেন। তৃতীয় পর্যায়ে তাঁর টিকা নেওয়ার কথা ছিল। তাঁর স্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যে ফর্ম তাঁর স্বামীকে সই করতে হয়েছিল তাতে লেখা ছিল এই ‘টিকা সর্ব অর্থে নিরাপদ’। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

এই স্বেচ্ছাসেবী ফর্মে হস্তাক্ষর করেছিলেন ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। তারপর তাঁকে অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয়। এটা নিশ্চিত করা হয় যে, তিনি অন্য কোনও সংক্রমণে ভুগছেন না। তারপর ১ অক্টোবর তাঁকে করোনা প্রতিষেধক টিকা কোভিশিল্ড প্রয়োগ করা হয়। এই টিকার প্রয়োগের ১১ দিন পর জানা যায় যে ব্যক্তিটির অ্যান্টিবডি (রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা) রয়েছে। কিন্তু তারপর তিনি মাথাব্যথার কথা বলতে থাকেন। এর পরেই তাঁর বমি শুরু হয়। তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। আইনি নোটিশে তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, টিকা নেওয়ার পরেই তাঁর স্বামীর মধ্যে ‘ব্যবহারিক পরিবর্তন’ লক্ষ্য করা যায়। তিনি তাঁর চারপাশের জিনিস এবং মানুষকে চিনতে পারছিলেন না। আলো এবং শধে তাঁর বিরক্তি বাড়তে থাকে। তাঁকে বিছানা থেকে তুলতে গেলেও তিনি বাধা দিতে থাকেন। তাঁরপরেই তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীরামচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজের ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসা চলে ১১ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। যখন হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়া হয় তখন তাঁর সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হার্ট পরীক্ষা এবং করোনার পরীক্ষা করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামী এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। আমরা অ্যাপোলো হাসপাতালের স্নায়ুতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তাঁর সিটি স্ক্যানে ধরা পড়েছে তাঁর মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করছে না। তবে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। কিন্তু তিনি আগের মতো কাজকর্ম করতে পারছেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only